দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় আমনের ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ। নানা রকম কীটনাশক ছিটিয়েও তেমন সুফল মিলছে না। কৃষকরা বলছেন, পোকার আক্রমণে শুকিয়ে যাচ্ছে ধান গাছের পাতা, মরে যাচ্ছে ধান গাছ। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সব ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
সরেজমিনে হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন আমনের ধান ক্ষেত ঘুরে দেখা গেছে, চারিদিকে যেন সবুজের সমাহার। দু’চোখ যেদিকে যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, হাকিমপুর উপজেলায় এবার আট হাজার ১২৬ হেক্টোর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। আর কয়েক সপ্তাহ’র মধ্যেই ধান গাছের পেটে শীষ আসতে শুরু করবে। এমন মুহূর্তে এসে দিনাজপুরের হিলি-হাকিমপুরসহ আশপাশের উপজেলার আমনের ধান ক্ষেতে দেখা দিয়েছে পঁচারি, মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণ। পোকার আক্রমণে শুকিয়ে যাচ্ছে ধান গাছের পাতা, মরে যাচ্ছে ধান গাছ। এসব পোকা আর বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই অঞ্চলের কৃষকেরা। নানা রকম কীটনাশক প্রয়োগ করেও তেমন সু-ফল মিলছে না। খোলা বাজার থেকে দেকানীদের পরামর্শ মতে আমন ক্ষেতে নানা রকম ওষুধ প্রয়োগ করেও এসব রোগ বালাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এসব কৃষক।
আবাদের শুরুতে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর জমির ধান গাছও হয়েছে দারুণ তরতাজা। কৃষকরা আশা করেছিলো, এ বছর তারা বাম্পার ফলন ঘরে তুলবে। কিন্তু পোকার আক্রমণে ফিকে হতে বসেছে কৃষকের স্বপ্ন। একদিকে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়া অন্যদিকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অতিরিক্ত খরচ। ফলে বাড়ছে ধান উৎপাদনের ব্যায়। দু-এ মিলে বেকায়দায় কৃষক। সবমিলে ধানের কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত কৃষক।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এখনই পোকা ও রোগবালাইয়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে না পারলে একদিকে কৃষক যেমন ক্ষাতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্র ব্যাহত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এসব কৃষক।
ধান গাছে পোকার আক্রমণের কথা স্বীকার করে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বলছেন, কৃষকদের সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকামাকড় দমনে নানা রকম প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় এবার দুই লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এ থেকে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে সাত লাখ মেট্রিক টন।






