নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করতে আসা মো: মাইদুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগদানের চেষ্টাকালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদানকালীন প্রারম্ভিক সত্যতা যাচাই শেষে, যোগদানকারী কর্মচারীদের ছবি, পরিচয় ও অন্যান্য নথিপত্র নিবিড়ভাবে যাচাইকালে জালিয়াতি ধরা পড়লে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। 

আটক মাইদুল ইসলাম লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের মো: আব্দুল হাই ও মোসলেহা বেগমের ছেলে।

উল্লেখ্য, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সাতটি ক্যাটাগরিতে ৩৭টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে, গত ১৩ আগস্ট চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের অনুকূলে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। নিয়োগপত্রের নির্দেশাবলি ও শর্তানুযায়ী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মোট ৩৪ জন প্রার্থী ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, মৌখিক পরীক্ষার সময় সংরক্ষিত ছবি ও শারীরবৃত্তীয় তথ্যের সাথে যোগদান করতে আসা ব্যক্তির চেহারার স্পষ্ট অমিল রয়েছে। এছাড়া মৌখিক পরীক্ষায় সংগৃহীত হাতের লেখার নমুনার সাথে উপস্থিত ব্যক্তির হাতের লেখা মেলাতে গিয়েও বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। পরে অন্য সব যোগদানকারী কর্মচারীর মুখোমুখি করা হলে, তারা উপস্থিত ব্যক্তিকে মো: মাইদুল ইসলাম হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। ওই ব্যক্তি তার সাথে যোগদানকারী কাউকে চিনতে পারেননি। সার্বিক উপাত্ত ও নিবিড় অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, মূল প্রার্থীর পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে যোগদানের চেষ্টা করেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) মো: রেজুয়ান খান জানান, ‘সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও প্রশাসনিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখতে এ ধরনের জালিয়াতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। শনাক্তকৃত ভুয়া চাকরিপ্রার্থী মো: মাইদুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে শাহবাগ থানার এসআই জনাব মো: আবুল কালামের মাধ্যমে থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

পিআরও রেজুয়ান খান জানান, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের দুর্নীতি, প্রতারণা বা জালিয়াতি বরদাশত করা হবে না। ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এ ধরনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’