নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার বিভাগে সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় রাজনৈতিক কারণে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ারও দাবি জানান তিনি।
গতকাল রোববার বিকেল রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা ছাড়া এটি ঘটতে পারে না। জামায়াতে যোগ দেয়ার আক্রোশ থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সেখানে ট্রলি পাওয়া যায় না, লাগেজ পেতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। আখতারুজ্জামান এসব অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। এ কারণে পরে তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয় এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে উপলক্ষ করে রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে করা জামিনযোগ্য মামলায় আদালত জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের একজন মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে সেদিনের ঘটনা নিয়ে জাতির সামনে অসত্য কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং মামলা করতেন। কিন্তু তা না করে অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা এক কর্মকর্তাকে দিয়ে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করানো হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের সাথে আদালতে করা আচরণের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সমাজে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এ-সংক্রান্ত গেজেট আদালতে উপস্থাপন করা হলেও তাকে ডিভিশন দেয়া হয়নি।
৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, বিচারকরা তাকে ডিভিশন দিলে কী হবে, তা নিয়ে ভয় পাচ্ছেন। এর পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রয়েছে। অবিলম্বে তার ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানান তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপির আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি ও হামলার অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তারা আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তার সাথে দেখা করতে যাওয়া জামায়াতের নেতাকর্মী ও আত্মীয়স্বজনের ওপরও হামলা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আদালতে যে ধরনের ঘটনা ঘটত, এখন তার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, আচরণের দিক থেকে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
মেজর (অব:) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি হচ্ছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারাও এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ঘোষণা দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন তারা। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত উপস্থিত ছিলেন।