খুলনা ব্যুরো

খুলনায় গতকাল রোববার পৃথক দুই জায়গায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একটিতে নিষিদ্ধ পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা ও কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি নাসিমুল করিম ওরফে নাসিম (৫৫) নিহত হয়েছেন। অপরটিতে মো: ইকবাল শেখ (৩৫) নামে বিএনপির এক স্থানীয় নেতা আহত হয়েছেন।
চরমপন্থী নেতা নিহত :  গতকাল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় একটি চায়ের দোকানে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এম এল জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল করিম ওরফে নাসিমকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে দ্রুত খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নাসিম ফরমাইশখানায় তার বাড়ির পাশে তৈয়ব আলীর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। তখন ভ্যানে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। এরপর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তিনটি গুলি তার মাথায় বিদ্ধ হয়। ওই সময় দোকানে বসা ছিলেন দিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বর মোল্লা হারুনুর রশিদ। তিনি জানান, নাসিম চা পান করছিলেন। এ সময়ে লুঙ্গিপরা দুই যুবক ভ্যান থেকে নেমে গুলি করতে করতে দোকানে ঢুকে নাসিমের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। গুলি করার পরপর আমি একজনকে জাপটে ধরি। তখন অপরজন আমার দিকে অস্ত্র তাক করলে ছেড়ে দিই। ঘটনার পর যে ভ্যানে ওই দুই কিলার এসেছিল সেই ভ্যানে চড়েই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাদের একজনের বয়স ২৫ এবং অপরজনের ৩০ বছর হবে।
নিহত নাসিমের স্ত্রী মুক্তা বলেন, গুলির শব্দ শোনার পর আমি তৃতীয়তলা থেকে নিচে নেমে এসে দেখি নাসিম রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর তাকে ধরাধরি করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। 
দিঘলিয়া থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড তাজা গুলি ও তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।  
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিম ছিলেন খুলনার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) একজন আঞ্চলিক নেতা। তিনি গোটা খুলনা অঞ্চলকে কেন্দ্র করে চরমপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি এবং অস্ত্র কেনাবেচাসহ প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত গণেশ হত্যা মামলায় তার ৩২ বছরের এবং একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। এ ছাড়াও তিনি বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ হত্যা চেষ্টা এবং জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলারও আসামি। ২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি আদালত থেকে জামিন নিয়ে টানা ২১ বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে পুলিশ এক দফা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে। তবে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার চার দিনের মাথায় খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নি পার্ক এলাকার একটি ভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাবেক জামাইর গুলিতে আহত : খুলনা মহানগরীতে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে ইকবাল শেখ (৩৫) নামের এক বিএনপি নেতা আহত হন। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে লবণচরা থানাধীন হঠাৎ বাজার এলাকার ইসলামপাড়া প্রথম গলির সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ইকবাল নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইকবাল শেখের মেয়ের সাথে একই এলাকার বাসিন্দা মো: আবির শেখের বিয়ে হয়েছিল। তবে তিন মাস আগে তিনি মেয়েকে ওই সংসার থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ চলে আসছিল। এর আগেও আবির শেখ বিএনপি নেতা ইকবালের ওপর একবার হামলা চালিয়েছিল বলে জানা যায়। গতকাল সকালে বাসা থেকে বের হয়ে কিছু দূর এগোলে আবির ও শাওনসহ চার থেকে পাঁচজনের একটি দল তার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। তারা ইকবালের বাম পায়ের হাঁটুর উপরে এক রাউন্ড গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ে কোপ দেয়। ইকবালের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আবির এলাকার একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্য বলে এলাকার লোকজনের অভিযোগ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লবণচরা থানার ওসি (তদন্ত) মো: শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক দ্বন্দ্বের তথ্য পাওয়া গেছে।