বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ব্যাংক লুটেরাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা হবে। গত ১৬ বছরে দেশের সব ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে আওয়ামী লীগের নেতারা। সব টাকা লুট করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা দেশটাকে বাপ-দাদার জমিদারি মনে করেছিল। কিন্তু সব কিছুর জবাব তাকে দিতে হবে। তাকেসহ তার দোসর ব্যাংক লুটেরাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা ডাকবাংলো মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে অপরাধের যিনি মূল হোতা শেখ হাসিনা, তার নির্দেশে হাজার হাজার লোকের প্রাণ গেছে। ২০১২ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই হত্যা নির্যাতন। আমরা পনেরো-ষোলো বছর ধরে আন্দোলন করছি। আমার বিরুদ্ধে এক শ’ এগারোটা মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। আমি এগারো বার জেলে গিয়েছি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছয় বছর জেলে ছিলেন। সাত শ’র বেশি মানুষ গুম হয়েছে, হাজারও মানুষ খুন হয়েছে। ষাট লাখ মানুষের প্রতি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত তাকে দেশ ছেড়েই পালাতে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তারা দীর্ঘদিন মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়ে আটকে রেখেছিল। তিনি এখন ভীষণ অসুস্থ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। রাষ্ট্রক্ষমতায় আমরা নেই, এখানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমরা আশা করবো খুব দ্রুত এসব মিথ্যা মামলার বিষয়ে তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এসময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মির্জা ফয়সল আমীন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক এমপি ও পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুর রহমান, দিনাজপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান মিয়া, সাবেক এমপি জেড মর্তুজা তুলা, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক জি এস ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলি, সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী প্রমুখ
এর আগে স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনে ঠাকুরগাঁওয়ে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ ও সাহায্যকরণ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন সরকার এসেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমরা আশা করি তারা সঠিকভাবে বিষয়গুলো উপলব্ধি করে সিদ্ধান্ত নিবেন। আজকে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছে। এর মানে প্রশাসন ফেইল করছে। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছে মানে অন্যান্য কাজ করছে না। আমি মনে করি ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার সেইসব এলাকাতে দেয়া দরকার, যেসব এলাকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু যেসব এলাকা শান্তিপূর্ণ আছে, যেখানে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরাই বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করছেন, সেখানে এই ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া সমীচীন হয়েছে বলে আমি মনে করি না। আমি তাই অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করব বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন। এবং কখনোই এমন কোনো ব্যবস্থা নিবেন না, যা সামগ্রিকভাবে জাতির জন্য বুমেরাং হবে এবং দেশের মানুষের জন্য ক্ষতি হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের পক্ষ থেকে জেলায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত চার জনের পরিবার এবং আহত ৪৩ জনের হাতে নগদ মোট ১৫ লাখ টাকা তুলে দেন।