বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, হাজার কোটি টাকা পাচার করা হাসিনার এজেন্টরা এখনো প্রশাসনে রয়েছে। তারা ড. ইউনূস সরকারকে সফল হতে দেবে না। বর্তমানে যিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব তিনি আগে কাতারে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তখন যারা বিএনপি করত তাদের পাসপোর্ট তিনি রিনিউ করতেন না। এ বিতর্কিত রাষ্ট্রদূতের কারণেই অনেক বাংলাদেশীকে দেশে ফিরতে হয়েছে। তিনি তো স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার এজেন্ট। তিনি কিভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হলেন? এরা কখনোই চাইবে না আপনি সফল হোন। তাদের মতো স্বৈরাচারী সরকারের এজেন্টরা প্রতিনিয়ত সরকারকে বিতর্কিত করবে।
গতকাল রোববার দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের খাকটেখা কালনীগড় বাজারে সম্প্রতি বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাসের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ শেষে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর সীমান্তে লাশের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভারতের গোলাম শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে তাই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আরো আক্রমণাত্মক। ৫ আগস্ট জনগণের যে বিপ্লব হয়েছে তার ধারাবাহিকতায় জনগণের আস্থা নিয়ে ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন। আমাদেরও এই সরকারের প্রতি আস্থা আছে। তবে গণতন্ত্রের চর্চাকে সামনে রেখে দ্রুত নির্বাচন দেয়া উচিত। নির্বাচন দিতে কেন বিলম্ব করছেন? অতি দ্রুত গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচন দিন।

রিজভী বলেন, ফেলানীর মতোই সীমান্তে স্বর্ণা দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে বিএসএফ। সীমান্তের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উদাসীন কেন? কেন আপনারা জোরালো আওয়াজ তুলছেন না? একটি নিষ্পাপ কিশোরী মেয়েকে হত্যার মতো ধৃষ্টতা যে দেশ দেখাতে পারে সেই দেশকে কেন কড়া প্রতিবাদ জানানো হলো না? বিএসএফ সীমান্তে হিন্দু নাকি মুসলমান তা দেখে গুলি করে না, সীমান্তে তাদের মূল টার্গেটই হলো বাংলাদেশীরা। তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার হাসিনার নির্দেশে বেগম খালেদা জিয়ার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে বছরের পর বছর কারাগারে রাখা হয়েছে। তারপরও দেশনেত্রী স্বৈরাচারী সরকারের কাছে মাথা নত করেননি। আমরা সেই নেত্রীর দল করি। আমরা সেই নেতার দল করি যেই নেতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে একটি জাতিকে একটি দেশ এনে দিয়েছেন। ’৭৫ এর পরে বাকশালের কালো অন্ধকার গর্ত থেকে আবারো বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। গত ১৫ বছরের আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশাপাশি দেশনায়ক তারেক রহমান গোটা জাতিকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের জন্য যেভাবে প্রস্তুত করেছেন তার ফসল জুলাই আন্দোলন।
কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শরিফুল হক সাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’র উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আলমগীর কবীর, আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সহসভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, অর্থ সম্পাদক মনোয়ার আহমদ রহমান। এ সময় আমরা বিএনপি পরিবারের পক্ষ থেকে বিএসএফের গুলিতে নিহত স্বর্ণা দাসের পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।