তামাবিল স্থলবন্দরে ভারতীয় মিথানলবাহী ট্যাংকলরিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার (৯ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দুর্ঘটনার সময় ট্যাংকলরিটিতে মিথানল না থাকায় রক্ষা পায় তামাবিল স্থলবন্দরসহ আশপাশের এলাকা। এ সময় আমদানি করা পাথর ও কয়লা বোঝাই ভারতীয় ট্রাকগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয় এবং আতঙ্কে কয়েক হাজার শ্রমিক-জনতা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করে নিরাপদে চলে যান।

এ দিকে বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি পদার্থ মিথানল আমদানি করা হলেও সেখানে নেই সুরক্ষিত জোন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা না। এ কারণে ভারতীয় মিথানলবাহী ট্যাংকলরিতে (ঘখঙ-খঅ-ঐ ৯৪৯৩) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থলবন্দরে থাকা ভারতীয় মিথানলবাহী অন্যান্য ট্যাংকলরি ও কয়লা বোঝাই ট্রাকগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় ডাউকি স্থলবন্দরে সরিয়ে নেয়া হয়। এ ছাড়া ডাউকি স্থলবন্দরে থাকা ভারতীয় ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী গাড়ি এসে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে জৈন্তাপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আল-আমীনের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন পোশাক কারখানার কাঁচামাল হিসেবে এবং জ্বালানিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার যোগ্য মিথানল (উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক/বিপজ্জনক বিস্ফোরক পদার্থ) সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক সপ্তাহ স্থলবন্দরে মিথানল বহনকারী ট্যাংকলরিগুলো আইনি বিভিন্ন জটিলতায় খালাসের অপেক্ষায় আটকে ছিল। এরপর নিয়মিত মিথানল পদার্থ বহনকারী ট্যাংকলরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বিপজ্জনক হওয়ায় মিথানল বহনকারী লরি প্রবেশ নিরুৎসাহিত করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
তামাবিল স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ভারতের আসাম রাজ্যের পার্বত্যপুর ডিডব্লুগড় পেট্রাকেমিক্যাল থেকে বাংলাদেশি টি কে গ্রুপ মিথানল আমদানি করেছে। এসব পদার্থ সরকারি বিধিমালা অনুযায়ীই আমদানি করা হয়েছে।