চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। গত বুধবার রাত ১১টায় ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকার পানির ট্যাংকির পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসামি চন্দন চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মেথরপট্টি সেবক কলোনি বান্ডেল রোড এলাকার মৃত ধারীর ছেলে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ শাহীন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে ২৬ নভেম্বর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানায় চন্দনকে প্রধান আসামি করে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।

মামলার পর থেকে সারা দেশের প্রশাসন বিশেষ তৎপরতা চালায়। গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মোহাম্মদ শাহীনের নেতৃত্বে শহর ফাঁড়ি পুলিশের উপপরিদর্শক এটি এসআই সাইফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ শাহীন বলেন, চন্দন ভৈরব সুইপার কলোনিতে তার শ্বশুর নন্দু বর্মণের বাড়িতে যাওয়ার জন্য এসেছিল। সে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে এসে ভৈরব স্টেশনে পানির ট্যাংকির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শ্বশুর বাড়িতে আসবে বলে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয়। চন্দনকে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জানা যায়, ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। এক পর্যায়ে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রধান আসামি চন্দন ছাড়াও মামলার আসামিরা হলেন, কোতোয়ালি থানার বান্ডেল রোড সেবক কলোনি এলাকার বাসিন্দা আমান দাস, শুভকান্তি দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত, রুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, ওমকার দাস, বিশাল, রাজকাপুর, লালা, সামির, সোহেল, শিবকুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, দুর্লভ দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য।