ভ্রমণ পিপাসু মানুষ একটু সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে নতুন দিগন্তের খোঁজে। যারা সবুজ অরণ্য, পুরাকৃতি আর সমুদ্রের মনমাতানো ঢেউয়ের শব্দের খোঁজে ছুটে চলে একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, তাদের যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি।
ম্যানগ্রোভ দেখে মনে হবে এ যেন আরেক সুন্দরবন। এখানে আসা পর্যটকের মন কাড়ে সবুজের সমারোহ। সেই সাথে নীল আকাশের কোলে সাদা মেঘের ভেলা, দখিনা বাতাসে দেহ মন শীতল করা, রাতের গায়ে জোনাকির আলোয় সাগর পাড়ে তারার মেলা আর তটিনীর মৃদু ছন্দে কাব্যিক আবেশে মানসিক প্রশান্তির এক অবারিত দুয়ার চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ও ডোমখালী উপকূলীয় এলাকা।

সবুজ বাগানের বুক চিরে বয়ে যাওয়া রূপালী চাঁদের মুঠো মুঠো আলোয় শুধু চোখই জুড়াবে না, এমনই আবেশে প্রকৃতির এ নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাতছানি দেয় এই স্পটটি।

প্রকৃতি ঘেরা অপার এক সৌন্দর্যের নীলাভূমি ডোমখালী উপকূলীয় বনাঞ্চল ও সমুদ্রসৈকত। সবুজের সমারোহ মিলে এক অপার সৌন্দর্যের মিলনকেন্দ্র। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলবাসীকে রক্ষার জন্য ’৮০-এর দশকে সাগরের কোলজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে হাজার হাজার একর ম্যানগ্রোভ বন। এখানে রয়েছে কেওড়া, বাইন, গড়ান, গেওয়া, সুন্দরীসহ নানা জাতের বৃক্ষ। যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ। বাঁধের উত্তর ও পশ্চিমে বয়ে চলা দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত।
ডোমখালী সাহেরখালী বেড়িবাঁধ সড়কে চোখে পড়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের ঢল। শোনা যায় সমুদ্রের গর্জন, বনের মধ্যে পাখিদের কলকাকলীর শব্দ। দক্ষিণা নির্মল বাতাসে শীতল করে ক্লান্ত শরীর।
স্থানীয় এফকে জাহিদ জানান, খুব ভোরে ও সন্ধ্যাবেলায় ঘাস, লতাপাতা খাওয়ার জন্য বনভূমির বাইরে চরাঞ্চলে চলে আসে হরিণের দল। এ ছাড়া দিনের বেলায়ও বনের ভেতর প্রবেশ করলে হরিণের আনাগোনা লক্ষ করা যায়। বনের মধ্যে খাবারের খোঁজে সারা দিন দলবেঁধে ছুটে বেড়ায় মহিষের পাল। ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বনের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যায়, কিছুদূর পর পর সাগরের সাথে মিশে যাওয়া ছোট ছোট খালের অবিরাম বয়ে চলা। এ খালগুলো দিয়ে ভরা মৌসুমে জোয়ারের পানি বাঁধের কিনারে চলে আসে।