বরাবরই পর্যটকদের পছন্দের স্থান কক্সবাজার। সমুদ্রসৈকত থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে পাথুরে গাঁথা উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকত। ভ্রমণের জন্য বছরের এই সময়ে ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণা বাড়ে কক্সবাজারে। এখন লাখো পর্যটকে মুখরিত কক্সবাজার। হোটেল মোটেল, কীটকট, শামুক, ঝিনুক, ডাব ও অন্যান্য পণ্য সাজিয়ে যারা ব্যবসা করছেন তারা মহাখুশি। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন ভোর থেকে রকমারি পণ্য সাজিয়ে পর্যটকদের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। পর্যটকদের কেনা-কাটায় নির্ভর করে শত শত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর পরিবারের সংসার চলে ইনানী সি-বিচকে কেন্দ্র করে। পটিয়া চট্টগ্রাম থেকে আসা শাহ হোসেন বলেন, কক্সবাজারে আসলেই আমি চলে আসি উখিয়ার ইনানী সমুদ্রসৈকতে। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ পাথুরে গাঁথা সি-বিচের ওপর সাগরের জলরাশির মহা-মিতালি, মেরিন ড্রাইভ সড়কের একপাশে সমুদ্র আর অন্য পাশে বিশাল আকৃতির পাহাড় আমাকে সত্যি আকর্ষণ করে। রংপুর থেকে আসা সানজিদা জানিয়েছেন, কক্সবাজার এসেছি তিন দিন হয়। ইনানী সি বিচে আজ (১৬ ডিসেম্বর) সকালে এসেছি। এখানে তিনি এই প্রথম এসেছেন। গতকাল অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বইয়ের পাতায় যেমন পড়েছি, সত্যিই ইনানী পাথুরে বিচ তার চাইতে অধিক সুন্দর। সৌদি আরব থেকে এসেছেন মোহাম্মদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতি বছরই আমি কক্সবাজার আসি। এখানে এসে নিরিবিলি ইনানী সাগরের সৈকত আমার খুব ভালো লাগে। এখানকার সমুদ্রের হিমেল বাতাস, একটু একটু শীতে হাঁটতে চমৎকার লাগে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বশর বলেন, দেশী-বিদেশী পর্যটকে মুখর উখিয়ার ইনানী। এখানকার পাঁচতারকা মানের হোটেল, কটেজ, রিসোর্টগুলো পর্যটকে মুখরিত। ফলে এখানকার অর্থনীতিতেও চাঙ্গাভাব বিরাজ করছে। প্রতি বছর শীতকালে পর্যটন মৌসুমে কক্সবাজারে প্রচুর ভিড় থাকে। কক্সবাজার ছাড়িয়ে উখিয়ার পাথুরে রানী খ্যাত ইনানী সমুদ্রসৈকতে এসে সাগরের নীল জলরাশিতে উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মেতে উঠেন ভ্রমণপিপাসুরা।
উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মী হুমায়রা বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের ছুটিতে সকালে ইনানী হয়ে কক্সবাজার এসেছি। কক্সবাজারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। সকাল-বিকেল সাগরতীরে সমুদ্রতীরে বেড়াত আর সৈকতে সূর্যোদয় আর সূর্য ডুবার দৃশ্য দেখার মজাতেই আলাদা। এ ছাড়া সাগরের নোনা পানিতে গোসল যেন দূর করে দেয় কর্মক্লান্তি। আর এটি ইনানীর মতো কোলাহলমুক্ত কোনো জায়গায় হলে তো কথাই নেই। কক্সবাজার সি প্যালেসের বিপরীতে কলাতলী সৈকত পার্ক বনকুঞ্জ রিসোর্টের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, কক্সবাজারে যেভাবে দেশী-বিদেশী পর্যটক আসা শুরু করেছে তাতে এখানকার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা মনে করছেন বাকি পর্যটন মৌসুমটাও তাদের বেশ ভালো যাবে। সব হোটেল এখন পর্যটকে ভরপুর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়াসহ নানা হয়রানি বন্ধে তারা দিন রাত কাজ করেছেন। স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শেষে এবং বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। সেই সুযোগে হোটেল-মোটেলের ভাড়াও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে কয়েকগুণ। তবুও পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের প্রায় সব রুমই বুকিং হয়ে আছে। কক্সবাজার লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা পয়েন্ট ও কলাতলী পয়েন্টে প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের পাশে হিমছড়ি, রেজুখালের পাশে মিনি বান্দরবান খ্যাত গোয়ালিয়া, পাটুয়ারটেক, ইনানী, সেন্টমার্টিন, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, রামুর বৌদ্ধমন্দির, মহেশখালীর আদিনাথ পাহাড়সহ জেলার সব পর্যটক স্পটে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের নারী-পুরুষের পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন পয়েন্টে সঠিকভাবে কাজ করতে দেখা গেছে।



