পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় চাকরিচ্যুত বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল, কারাবন্দীদের মুক্তি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবিসহ তিন দফা দাবিতে একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী বিডিআর পরিবারের সদস্যরা।
গতকাল রোববার বিডিআর কল্যাণ পরিষদ ঢাকা জেলার আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছাড়াও ছাত্র-জনতা।
মানববন্ধনে গণ-অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ বলেন, ভারতের মদদে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল আওয়ামী লীগ। প্রকৃতপক্ষে সেটা বিডিআর বিদ্রোহ নয়, সেটা ছিল ভারতের মদদে পরিকল্পিত একটা হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আগামী ১৯ জানুয়ারি জামিন শুনানি রয়েছে, যারা অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রয়েছেন, তাদের সবাইকে জামিন দিতে হবে। যদি জামিন না দেয়া হয়, তাহলে আইন উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।
বিচার নিশ্চিত না করা হলে জনতা ফের রাজপথে নেমে আসবে উল্লেখ করে বাংলাদেশ লেবার পার্টির মহাসচিব ডা: ইরান বলেন, ‘বিডিআর নিজের জীবন বাজি রেখে দেশের সীমান্ত পাহারা দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ও তারা জেলখানায়। তাদের ওপর এখনো জুলুম করা হচ্ছে। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, অবিলম্বে বিডিআর সদস্যদের মুক্তি ও হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করুন নয়তো সারা দেশের জনতা আবার ও রাজপথে নেমে আসবে।
৬৪ জেলায় একযোগে তিন দফা দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রসঙ্গ টেনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআর ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যে অন্যায় হয়েছে, সেখানে তাদের ন্যায়বিচারের জন্য আমরা দাঁড়িয়েছে। কেন আমাদের আন্দোলনে নামতে হবে, কেনই বা শাহবাগ ব্লকেড করতে হবে, এটা তো গণদাবি! আজ সারা বাংলাদেশে ৬৪ জেলায় মানববন্ধন ও প্রচার-প্রচারণা চলছে, জনগণের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে তারাও চায় ন্যায়বিচার।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ ডিসেম্বর একটি কমিশন গঠন করা হয়, যার কার্যপরিধির ২(ঙ) ধারাতে যুক্ত করে বলা হয়েছে, যারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তারা দোষীই থাকবেন। তাহলে পুনঃতদন্ত করে কী লাভ! আজকে যারা অন্যায়ভাবে চাকরি হারিয়েছেন, তাদের জানার অধিকার রয়েছে, কেন তারা চাকরি হারিয়েছেন! এখনো বিনা-বিচারে অনেক জেলে রয়েছে, অনেকেই ধুঁকে-ধুঁকে মরছেন। আমরা চাই, এর পেছনে জড়িত খুনি হাসিনাসহ সবার বিচার নিশ্চিত করা হোক। আমরা জনগণের শক্তির ওপর বিশ্বাসী, সরকারকে বলব কোনো এজেন্সির চাপ অনুভব করবেন না, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করুন।
মানববন্ধনে উল্লেখ করা তিন দফা দাবিগুলো হলো- পিলখানায় নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার ৫৭ সেনা অফিসারসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায়ী ব্যক্তিবর্গ এবং নেপথ্যের নায়কদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং সকল নির্দোষ বিডিআর সদস্যর মুক্তি; প্রহসনের ১৮টি স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে গণহারে গ্রেফতার করে যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সবাইকে সরকারি সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ (যেমন : রেশন, বেতন ভাতাদি, পদোন্নতি) পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল বা যোগদান; তদন্ত কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্ভয়ে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত ২ এর (ঙ) ধারা বাদ।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী তৎকালীন বিডিআর সদর দফতরে ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। যাবজ্জীবন সাজা দেয়া হয় ১৮৫ জনকে, আরো ২২৮ জনকে দেয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, খালাস পান ২৮৩ জন। খালাস বা সাজাভোগ শেষে এখনো বিস্ফোরক মামলার কারণে ৪৬৮ জনের মুক্তি আটকে রয়েছে।
তিন দফা দাবিতে দেশজুড়ে মানববন্ধনে বিডিআর স্বজনরা
পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় চাকরিচ্যুত বিডিআর (বাংলাদেশ রাইফেলস) সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল, কারাবন্দীদের মুক্তি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার দাবিসহ তিন দফা দাবিতে একযোগে দেশের ৬৪ জেলায় মানববন্ধন...



