চাষিদের স্বার্থ রক্ষা করে লবণ শিল্পের উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
গতকাল সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লবণ শিল্পের অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় এবং দুপুরে সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডীতে লবণ মাঠ এবং প্রস্তাবিত লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময় চৌফলদণ্ডীতে স্থানীয় চাষিদের কাছে তাদের সমস্যার কথা শুনতে চান উপদেষ্টা। চাষিরা বর্তমানের লবণের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, চাষের জন্য খাসজমি বন্দোবস্তি না পাওয়াসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
এ সময় উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বলেন, লবণ উৎপাদন ও গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য সরকার পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে। চৌফলদণ্ডীতে লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউট হচ্ছে। এ ছাড়াও চাষিরা যেন লবণের ন্যায্যমূল্য পান সেই লক্ষ্যে নীতিমালার আলোকেই লবণবোর্ড গঠনসহ নানা বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান।
বিগত ৬৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণ লবণ উৎপাদনের তথ্য দিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, গুণগত মানের লবণ উৎপাদন না হওয়ায় চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তাই নতুন পদ্ধতির চাষ শুরু করার জন্য পাইলটিং প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে লবণ উৎপাদন ও গুণগতমান যেমনি বাড়বে চাষিরাও যাতে ন্যায্যমূল্য পান এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ ও বিসিকের কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে লবণচাষি ও অংশীজনের সাথে এক মতবিনিময় সভা করেন তিনি।
বিসিকের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চৌফলদণ্ডীতে ৩০ একর জায়গায় লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউট নির্মাণ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৫৪ কোটি টাকা। প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আছে। এ ছাড়াও লবণ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চৌফলদণ্ডীতে ভারত, চীন ও জাপানের চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ উৎপাদনের একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয়।



