বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, ফার্নিচার অগ্রগামী শিল্প হওয়া সত্ত্বেও এই শিল্পের রফতানি খুবই নগণ্য। এই শিল্পে গত অর্থবছরে মাত্র ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি হয়েছে, যা অত্যন্ত নগণ্য। ১০০ কোটি ডলারের ফার্নিচার রফতানিতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।
গতকাল পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাক্সিবিশন সেন্টার সভাকক্ষে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বাংলাদেশ ফার্নিচার রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিএফইএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফার্নিচার শিল্প : রফতানি সম্ভাব্যতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমরা যদি ২০৩০ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১০০ কোটি ডলার) রফতানির লক্ষ্য নিয়ে আগাই সে ক্ষেত্রে কেবল সরকারের ওপর দায় চাপালেই হবে না বরং বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। সবাই একসাথে কাজ করতে হবে।
ইপিবির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ইপিবির পরিচালক (নীতি) আবু মুখলেস আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইএ সভাপতি দেওয়ান আতিফ রশিদ।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টা ফার্নিচারকে বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। একসময় ফরাশগঞ্জভিত্তিক একটা শিল্প, তারপর মিরপুর, বাড্ডা, পরে ঢাকার বাইরে বৃহৎ আকারে ফার্নিচার শিল্প গড়ে ওঠে। আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং এই খাতে প্রায় ৩০ লাখ কর্মী সংশ্লিষ্ট আছে। এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবদান এবং মূল্যমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর ভিত্তি করে আজ যখন আমরা বৈদেশিক বাজারে নিজেদের উপস্থিত করার চেষ্টা করছি এবং সম্ভাবনাগুলোকে যাচাই করার চেষ্টা করছি সেখানে দেখা যাচ্ছে ভিয়েতনাম খুব শক্তভাবে আমাদের সামনে উঠে আসছে। তিনি বলেন, ভিয়েতনামের সাফল্যের মূল কারণ হচ্ছে ম্যানুফ্যাকচারিং মাইগ্রেশন। চায়নিজ উৎপাদকরা ভিয়েতনামে মাইগ্রেট করেছে যাদের খুব ভালো বিক্রয় এবং উৎপাদন ইকোসিস্টেম ছিল। কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে কারণ ভিয়েতনাম সরকার তাদের সব সুবিধা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে ব্যবসায় টিকতে পারবেন না। তাই কালেক্টিভ কো-অপারেশন দরকার। কেবল সরকারের ওপর সব দায় চাপালে হবে না।
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ফুয়াদ এইচ মল্লিক, বুয়েটের মেটারিয়ালস অ্যান্ড মেটালিউরজিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ শরিফ, হাতিল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এবং চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, বন বিভাগের ডেপুটি চিফ কনজারভার মইনুদ্দিন খানসহ অনেকে।
ডিসিসিআই সভাপতির সাক্ষাৎ : দেশের এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান কাঠামোর সংস্কার ও যুগোপযোগীকরণের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
গত রোববার বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সাথে সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে এক সাক্ষাতে তাসকীন আহমেদ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
কোভিড মহামারি, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, ২০২৪ সালে দেশের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন পরবর্তী অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্তিতি বিবেচনায় আমাদের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে নেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ ও যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য ‘বাস্তবভিত্তিক উত্তরণ কৌশল (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি-এসটিএস)’ প্রণয়ন করা আবশ্যক।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে সম্প্রতি শতাধিক পণ্যের উপর ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও কর বৃদ্ধির উদ্যোগের কারণে এরই মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষসহ ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে জনগণের জীবনযাত্রার ওপর আরো অধিক হারে চাপ ফেলবে, সেই সাথে ব্যবসায়িক ও বিনিয়োগ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।



