আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি কোনো প্রতিশোধ নেয়ার পক্ষপাতী নই, নির্বাচনে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল সেই গণজোয়ারের সোনালি ফসল। এ বিপুল বিজয়, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোটের বিজয়। এ বিজয়ে উল্লাসিত, উচ্ছ্বসিত না হওয়ার জন্য নেত্রীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের নেত্রী বিজয় উৎসব মিছিল না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি আশা করি আমাদের নেতাকর্মীরা ধৈর্যের সাথে সংযমী হয়ে এ বিজয়ের আনন্দ ঘরোয়াভাবে উদযাপন করবে। কোনো বাড়াবাড়ি করবে না এবং আমাদের প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীর সাথে খারাপ আচরণ করবে না। আমাদের এ এলাকার একটা ঐতিহ্য ও গৌরব আছে। বাগি¦তণ্ডা এটি মাঠে থাকবে, কারো ঘরে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর করবেন না। আমি বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা পছন্দ করি না। রাজনীতিতে জোয়ারভাটা আছে। কখনো জোয়ার আসবে, তেমনি ভাটাও আসবে। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি, সারা দেশে কিছু কিছু সহিংস ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু আমাদের এ এলাকায় কিছুই হয়নি। সে জন্য আমি আমার নেতাকর্মী ও জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সবাইকে আমি ধৈর্য ধরতে বলছি, রাতারাতি সব কিছু সমাধান করা সম্ভব না, সময় লাগবে।
আমি এ কথা আমার এলাকায় নয়, সারা দেশের নেতাকর্মীদের আমার এ নির্দেশ পালন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমার নেত্রীর কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে চাই যে, আমরা অতীতে যে ভুল করেছি সেই ভুল সংশোধন করব। ভুল সংশোধন করার সৎ সাহস শেখ হাসিনার আছে। পার্টির যে শিক্ষা, বঙ্গবন্ধুর যে শিক্ষা, শেখ হাসিনার যে শিক্ষা সেই শিক্ষা থেকে আমরা শিক্ষা নেব। নবতর পথযাত্রার সূচনা করব। বাংলাদেশের জনগণের কাছে উন্নয়ন নিয়ে, আচরণ নিয়ে আমরা ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে সম্মান ও মর্যাদাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব। আমরা সুশাসনকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার করছি। আমাদের পরবর্তী জেনারেশনের জন্য শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব এবং দেশের বেকার তরুণদেরকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবো। নতুন বছরে এ মেসেজ আমাদের নেত্রীর পক্ষ থেকে আমি আপনাদের দিয়ে যাচ্ছি।
তিনি গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী-৫ আসনের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার আ’লীগ কার্যালয়ের সামনে বিজয়-উত্তর পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, নোয়াখালী জেলা আ’লীগের সহসভাপতি মো: শাহাব উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মিজানুর রহমান বাদল, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুর নবী চৌধুরী, এলিন গ্রুপের পরিচালক গোলাম শরীফ চৌধুরী পিপুল, আমেরিকান প্রবাসী রমেশচন্দ্র নাথ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অরবিন্দ ভৌমিক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, কেন্দ্রীয় আ’লীগ উপ-সম্পাদক ইস্কান্দার মির্জা শামীম, স্বাধীনতা ব্যাকার্স পরিষদের সদস্য ফখরুল ইসলাম রাহাত, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি নুরুল করিম জুয়েল প্রমুখ।