বছরের পর বছর বসবাস করছি এ নদীর পাড়ে। বাপ-দাদার আমলের জায়গা অথচ বুলডোজার দিয়ে আমাদের বাড়িঘর গুড়িয়ে দিলো অবৈধ দখলের অভিযোগ এনে।
গত কয়েক দিনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বুড়িগঙ্গা নদীর জমি দখল উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত জনতা এভাবেই গণমাধ্যমের প্রতিনিধি পেলে তাদের ক্ষোভ আর বেদনার কথা জানাতে ছুটে আসছে। তাদের অভিযোগ গরিব আর অসহায়ের সম্পত্তিকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করতে আগ্রহ বেশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের।
তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে এ পর্যন্ত তারা আইনের বাইরে একটি পদক্ষেপও নেননি বলে নয়া দিগন্তকে জানান। কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ২২০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
এ দিকে গত কয়েক দিন সরেজমিন নদীর পাড়ে গিয়ে এ প্রতিবেদকের চোখে পড়েছে ভিন্ন চিত্র। দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বুড়িগঙ্গার আদি উৎসমুখ দখল উচ্ছেদে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বুড়িগঙ্গার উৎসমুখ দখলকারী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান নদীর ওপরে জগদল পাথরের মতো বসে আছে। সদরঘাট থেকে বসিলা পর্যন্ত রাস্তা প্রশস্ত করতে উচ্ছেদ চালিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। নদীর আদি প্রবাহ চলমান বা দূষণরোধে এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ নেই। অধিকাংশ স্থানে নদী তট (ফোর শোর) রক্ষা করা হয়েছে, ১৫০ ফুট প্রস্থ নদীপাড় রক্ষা করা হয়নি। আদি বুড়িগঙ্গার ওপরে অসংখ্য বেআইনি দখলদারদের কিছুই করা হয়নি। অপর দিকে বুড়িগঙ্গার ধলেশ্বরীর উৎস পলি ভরাটের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে থাকলেও আদি চ্যানেলটি নগরায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে দখল, ভরাট ও বাড়িঘর নির্মাণ। কিন্তু বুড়িগঙ্গার প্রবাহ সচল রাখতে আদি বুড়িগঙ্গার ও ধলেশ্বরীর উৎসমুখ খুলে দেয়ার ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের বুলডোজার সেখানে হানা দেয়নি।
এ ব্যাপারে বাপার যুগ্মসম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার শরীফ জামিল নয়া দিগন্তকে জানান, আসল বুড়িগঙ্গার ধলেশ্বরী থেকে লালবাগ লোহারপুল পর্যন্ত ভয়াবহ দখলের পর এখন শুরু হয়েছে তুরাগ থেকে আসা বুড়িগঙ্গার চলমান ধারায় ব্যাপক দখল। নদীর বুকে মাইলের পর মাইল ডেভেলপার কোম্পানি প্রতিদিন বেপরোয়া দখল চালালেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংক আরো একটি কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রণন করেছে বলে জানা গেছে। তিনি আরো বলেন, চলমান দখল অব্যাহত রেখে, আদালতের রায় যথাযথভাবে মেনে নদীর সীমানা চিহ্নিত না করে এবং দখলদারদের উচ্ছেদ না করে ইতোমধ্যে নদীর বুকে পাইলিং করে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে নদীর স্থায়ীভাবে ক্ষতিসাধন করার পাশাপাশি দখলদারদের বৈধতা দেয়া হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
অপরদিকে নদী নিরাপত্তার একটি সামাজিক সংগঠন নোঙর সভাপতি সুমন শামস নয়া দিগন্ত জানান, বুড়িগঙ্গা ও আদি বুড়িগঙ্গা নদী দখল-দূষণে কার্যত অবরুদ্ধ। বেপরোয়া দখল, ভরাট এবং ক্রমবর্ধমান দূষণ ও অব্যাহত আগ্রাসনের ফলে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল এখন মৃত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও সম্পূর্ণ আদি বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধারে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।



