রাজধানীতে দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নগরায়নের কারণে ঢাকার সবুজ অংশ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকাকে দ্রুত সবুজের আচ্ছাদন না দেয়া গেলে নগরবাসীর পক্ষে এখানে একসময় বসবাসই কষ্টকর হয়ে উঠবে। ইট কংক্রিটের জঞ্জালের নগরী বলে একে চিরতরে ত্যাগ করবে।
ঢাকায় এখন সবুজ গাছ-গাছালি ঘেরা এলাকার দেখা মেলা ভার। যেখানে তাকানো যায় ইট পাথরে মোড়া এক নগরী বলে ঠাহর হবে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. কে মউদুদ ইলাহী, মো: হুমায়ুন কবির ও মাহমুদা ইসলামের তত্ত্বাবধানে গবেষক মাহমুদা আফরোজের গবেষণায় দেখা গেছে কিভাবে ঢাকার সবুজ অংশ দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা শহরের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম দিকে নগরায়নের প্রভাব বেশি না থাকায় ১৯৮৮ সালে সেসব স্থানে জলাশয়, গাছপালার পরিমাণ বেশি ছিল। স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ১৯৮৮ সালে যেখানে ঢাকা শহরের আয়তনের ৩২.৯৯ শতাংশ এলাকা গাছপালায় আবৃত ছিল তা জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও নগরায়নের ফলে ১৯৯৮ সালে ২৯.০৮ শতাংশ, ২০০৮ সালে ২৭.৭৩ শতাংশ ও ২০১৮ সালে ২২.০৫ শতাংশে নেমে আসে। গবেষণায় উঠে আসে অপরিকল্পিত নগরায়নের প্রভাব পড়েছে বনায়ন ও ভূমির উপর, যা একটি নগরের প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে বলা হয়, ঢাকা শহরে জলাশয় ও বনভূমির পরিমাণ হ্রাস বাস্তুসংস্থানসহ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানের পাশাপাশি ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০ শতাংশের বিপরীতে এ নগরে সবুজ বনভূমি রয়েছে মাত্র ৮ ভাগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্রা গবেষণায় দেখা গেছে, নাগরিকদের সুস্থতায় একটি শহরে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য কমপক্ষে ৯ বর্গমিটার সবুজের আচ্ছাদন থাকা প্রয়োজন, যা ঢাকায় রয়েছে ২ বর্গমিটার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত সবুজ না থাকায় ঢাকার চারপাশের ইটভাটা, যানবাহন, শিল্প কলকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলা এবং যত্রতত্র উন্মুক্ত ডাস্টবিন থাকায় দিনে দিনে বাড়ছে বায়ুদূষণের মাত্রা। বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকায় বায়ু দূষণের মাত্রা সহনীয়পর্যায়ের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এ কারণে নগরবাসী ভুগছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুস ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ব্যাধিতে।
নিসর্গপ্রেমী, তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকারম হোসেন বলেন, উন্নত দেশগুলোতে নগর গড়ে তোলার আগে পরিকল্পনা নেয়া হয়। এ কারণে একটি নগরে সবুজের স্বাদ পায় নগরবাসী। কিন্তু এখানে লোকালয় গড়ে ওঠার পরিকল্পনা নেয়া হয়। ফলে জায়গার স্বল্পতায় আর পরিকল্পিত বৃক্ষায়নের সুযোগ না থাকায় সংক্ষিপ্ত আকারে কিছু করা হয়। এতে কাজের কাজ কিছু হয় না। এ ধরনের অপরিকল্পনার ফল ঢাকাতেও পড়েছে। কিন্তু যতটুকু বৃক্ষায়ন হোক না কেন তা যদি সঠিক ও নিয়মিতভাবে পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাহলে ঢাকাকে সবুজ নগর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে, নগরবাসী পাবে বনায়নের স্বাদ।
এদিকে খোদ রাজধানীর বনায়ন বা সবুজের আচ্ছাদনের এমন হাল নিয়ে এবারে পালিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বন দিবস। এবারের সেøাগান হচ্ছে ‘বন বনানীকে জানি, জানাই, ভালোবেসে বনকে বাঁচাই।’ কেননা উদ্ভিদ তথা বনভূমি হলো পৃথিবীর প্রাণ। পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে হলে বনভূমি রক্ষা করা ছাড়া কোনো গতি নেই। এ সত্যকে সামনে রেখে প্রতি বছর ২১ মার্চ সারা বিশ্বে পালিত হয় বন দিবস। এ উপলক্ষে বন অধিদফতরসহ সরকারি-বেসরকারিপর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
দ্রুত নিঃশেষ হচ্ছে ঢাকায় সবুজের সমারোহ
রাজধানীতে দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে সবুজের সমারোহ। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে নগরায়নের কারণে ঢাকার সবুজ অংশ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকাকে দ্রুত সবুজের আচ্ছাদন...



