নতুন দায়িত্ব পেয়েই দলকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বলেছেন, এরশাদ যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন তার নির্দেশেই দল চলবে। দলকে সংগঠিত করে এগিয়ে নিতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। এসব পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছেÑ জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কাউন্সিল আয়োজন, তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নয়া মেলবন্ধন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টিকে আরো সক্রিয় এবং শক্তিশালী করা। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলায় সম্মেলন, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করা, নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে দলকে ঢেলে সাজানো এবং গণমুখী কর্মসূচি দিয়ে সংসদ ও রাজপথে সরব থাকা।
গতকাল রোববার জি এম কাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে তার নয়া এই পরিকল্পনার কথা জানান। গত শনিবার রাতে দলটির চেয়ারম্যান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংবাদ সম্মেলন করে অনুজ জি এম কাদেরের হাতে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তুলে দেন। এরশাদের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে দলটির বেশির ভাগ নেতাকর্মীই বেজায় খুশি। তাদের মতে, পার্টি চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অনেকটা জিমিয়ে পড়েছিল। তা ছাড়া বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কোচেয়ারম্যান রওশন এরশাদও অনেকটা অসুস্থ। এ অবস্থায় দলের ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নিতে জি এম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে এরশাদ ঠিক কাজটিই করেছেন। চেয়ারম্যানের এ সিদ্ধান্তে দলে হতাশা দূর হয়েছে বলে দাবি করেন জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
রাজনীতিতে ‘ক্লিনম্যান’ হিসেবে পরিচিত জি এম কাদেরকে বিভিন্ন সময়ে নিজের এবং দলের উত্তরসূরী বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বড় ভাই এইচ এম এরশাদ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান, ছোটভাই জি এম কাদেরই তার রাজনৈতিক উত্তরসূরী। এর অংশ হিসেবে তাকে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতাও নির্বাচিত করেন। পরে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে যান। সেখান থেকে ফিরে গত ২২ মার্চ দলে ‘বিভেদ’ সৃষ্টি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে ‘ব্যর্থতার’ অভিযোগ তুলে জি এম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। পরদিন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেয়া হয়। সংসদের উপনেতা করা হয় স্ত্রী ও পার্টির কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে। বিষয়টি সহজভাবে মেনে নেননি জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তাদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ এবং দাবির মুখে জি এম কাদেরকে ৪ এপ্রিল জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করেন এরশাদ।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, মিস্টার ক্লিন ম্যানখ্যাত জি এম কাদেরের মতো পরিচ্ছন্ন মানুষকে জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ দায়িত্বে দেয়ায় দল উপকৃত হবে। দলের দুঃসময়ে এরশাদ জেলে গেলে কাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নেতাকর্মীদের ছায়া হয়ে পাশে এসে দাঁড়ান। পরে শেখ হাসিনার মহাজোট আমলে মন্ত্রী হয়েও তিনি অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। নীতি আদর্শে সফলতার সাথে রাষ্ট্রের দায়িত্বও পালন করেছেন। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রয়েছে। দশম জাতীয় সংসদে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান। দীর্ঘ সময় সরকারের মন্ত্রী ছিলেন জি এম কাদের। কিন্তু দুর্নীতির কালিমা তাকে সামান্যতম স্পর্শ করেনি। জি এম কাদের একজন সফল রাজনীতিবিদ। কারণ তার আচার-আচরণে সরলতা আছে। নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সবাইকে তিনি তার পরিবারের সদস্য মনে করেন। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য তার দরজা ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখোরিত থাকে তার বাড়ির আঙ্গিনা। তিনি নেতাকর্মীদের মুখের দিকে তাকালেই বুঝতে পারেন কার কী সমস্যা।
এ দিকে নতুন দায়িত্ব নিয়ে জি এম কাদের বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদই আমাদের নেতা। তিনি যত দিন বেঁচে আছেন, তার নির্দেশনা অনুযায়ীই জাতীয় পার্টি চলবে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে তিনি পার্টির কাজকর্ম করতে পারছেন না, এতে পার্টির স্বাভাবিক গতিতে স্থবিরতা এসেছে। তাই তিনি আমাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছেন।