বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রের মধ্যবর্তী এবং তীরবর্তী এলাকায় বায়ু বিদ্যুতের পাশাপাশি রয়েছে জোয়ার-ভাটার ঢেউ এবং থার্মাল (সমুদ্রের তাপমাত্রা) থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার হাতছানি।
উত্তরা ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র গবেষণা কর্মকর্তা ড. দিলরুবা চৌধুরী এসব তথ্য তুলে ধরেছেন এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ব্লু ইকোনমি : প্রসপেক্টস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অব ম্যারিন রিনিউ অ্যাবেল এনার্জি অব বাংলাদেশ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে তিনি জানান, সাগরের জোয়ার-ভাটা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত স্থান হচ্ছে চর চ্যাঙ্গা। অপর দিকে তীরবর্তী এলাকা থেকে বায়ু বিদ্যুতের জন্য উপযুক্ত এলাকা পতেঙ্গা। বর্তমানে মহেশখালীতে একটি বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু রয়েছে। অপর দিকে সামুদ্রিক তাপমাত্রা যা থার্মাল বিদ্যুৎ নামে পরিচিত, সে ক্ষেত্রে কক্সবাজার জেলা হচ্ছে বেশি সম্ভাবনাময় এলাকা। এর মধ্যে মাত্র কিছু স্থান রয়েছে যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব না হলেও বেশির ভাগ স্থান থেকেই তা জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পর দেশের সমগ্র স্থানেই তা সরবরাহ করা সম্ভব।
কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আছে এসব সেক্টরে?
পৃথিবীর সমুদ্র থেকে ২০ থেকে ৮০ হাজার টেরাওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে ড. দিলরুবা চৌধুরী সাগরের ঢেউ থেকে বাংলাদেশ বছরে ২.২৩ গিগাওয়াট আওয়ার এবং ডায়নামিক টাইডাল পাওয়ার থেকে ২৩ টেরাওয়াট আওয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তার প্রতিবেদনে তুলে ধরেন। এর মধ্যে সরকার সাগর তীরবর্তী অঞ্চল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৩৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তবে দেশে স্বল্প পরিসরে নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কিছু প্রযুক্তি বিদ্যমান থাকলেও জাতীয় পর্যায়ে বর্ধিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তেমন কোনো প্রযুক্তি নেই। তাই সম্পূর্ণ বিদেশ থেকে উন্নত প্রযুক্তি আমদানি করে আমাদের এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে বলে ড. দিলরুবা চৌধুরী জানান নয়া দিগন্তকে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎ-জ্বালানি বিভাগের নীতিমালায় গত ২০১৫ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে তা ১০ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার ২০১৬ সালের বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনার খসড়ায় দেখানো হয়, দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে মোট ৩ হাজার ৬৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে শুধু সৌরশক্তি কাজে লাগিয়েই ২ হাজার ৬৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এ ছাড়া বায়ুবিদ্যুৎ থেকে ৬৩৭ ও বায়োগ্যাস থেকে ২৮৫ মেগাওয়াট উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে।