ভিকারুননেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের সেই পরিমল মাস্টারের কথা মনে আছে নিশ্চয়। তার মতো আরেক পরিমলের সন্ধান পাওয়া গেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। লম্পট এ শিক্ষকের নাম আরিফুল ইসলাম। স্থানীয় জনতা তাকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুল র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে ব্ল্যাকমেইল করে ২০ অধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ করছে সে। আরিফুলের কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকেও গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জে আপত্তিকর ছবি তুলে বহু ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগে দুই শিক্ষককে আটক করে গণধোলাই দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব-১১ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরে শিক্ষকের সাথে ছাত্রীদের আপত্তিকর একাধিক ছবি উদ্ধার করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি কান্দাপাড়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড হাইস্কুলে এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আট বছর ধরে স্কুলটিতে অঙ্ক ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছে। তার চাকরি জীবনে আরিফুল ইসলাম বহু ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে আপত্তিকর ছবি তুলে ধর্ষণ করতে বাধ্য করে। ছাত্রীদের কোচিং পড়ানোর জন্য তার বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় সে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তার স্ত্রী ও সন্তান না থাকলেও ওই ফ্ল্যাটে তিনটি খাট ছিল বলে জানায় ওই ফ্ল্যাটের দারোয়ান।
গত তিন দিন তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো এলাকায় প্রচার হতে থাকে। পরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই স্কুলে গেলে আরিফুল ইসলাম তার মোবাইল ফোনে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে ফেলে। পরে এলাকাবাসী ওই মোবাইল উদ্ধার করে এলাকার একটি মোবাইল দোকানে একটি সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার করে।
এ সময় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই স্কুলে হামলা চালায় এবং স্কুলের লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলাম ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে গণধোলাই দেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার লম্পট শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে সহযোগিতা করে আসছিল বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় ওই শিক্ষক কর্তৃক যৌন লালসার শিকার হয়। ওই মেয়ে এখন নবম শ্রেণীতে পড়ছে। তিনি বলেন, এখনো লম্পট ওই শিক্ষক থেকে রক্ষা পায়নি আমার সন্তান। কিন্তু ঘটনার এত বছর পেরিয়ে গেলেও আমার সন্তান আমাকে না বলায় আমি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারিনি। বিষয়টি ২-৩ দিন আগে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকার যুবসমাজকে বলেছি।
এলাকাবাসী জানান, তার অপকর্মে সহযোগিতা করত স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার। তিন মাস আগে স্কুলের এক শিক্ষিকাও আরিফুলের যৌন হয়রানির শিকার হন। ওই শিক্ষিকা এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষক তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক।
র্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আলেপ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে তার মোবাইল ফোন থেকে ছাত্রীদর সাথে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেকগুলো ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। তার মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ২০ জনের অধিক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছে ওই শিক্ষক। যা প্রথামকিভাবে ওই শিক্ষক আমাদের কাছে স্বীকার করেছে।