বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক না হওয়ায় সৃষ্ট অচলাবস্থা ভাঙতে দূর হচ্ছে। দীর্ঘ আট বছর পর যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৮ আগস্ট বৃহপতিবার। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার এবং ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং দুই দেশের নেতৃত্ব দেবেন।
দীর্ঘ দিন ধরে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী বা সচিব পর্যায়ের কোনো ধরনের বৈঠক হচ্ছে না। তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে কোনো চুক্তি না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। দুই দেশের মধ্যে সর্বশেষ ২০১০ সালে মার্চে দিল্লিতে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মন্ত্রী পর্যায়ের ৩৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারত ঐকমত্যে পৌঁছে। এর পরে চুক্তির বিষয়ে আরো অগ্রগতি হয়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিতও হয়ে যায়। চুক্তির খসড়াও হয়। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতার শেষ পর্যায়ে মিলে দুসংবাদ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। তাই তিস্তা চুক্তি এখনো ঝুলে আছে শুধু আনুষ্ঠানিকতায়। তবে তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কারণে যৌথ নদী কমিশনের সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়নি দীর্ঘ সময় ধরে। একধরনের অচলাবস্থা দেখা দেয় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক নিয়ে।
তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ার উভয় দেশের সচিব পর্যায়ে কোনো বৈঠকের ব্যাপারে যুৎসই কারণও পাচ্ছিল না দু’পক্ষই। আর এতে অমীমাংসিত অনেক বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকে দিনের পর দিন। আট বছর ধরে এমন অচলাবস্থায় ভাঙতেই এমন বৈঠক হতে যাচ্ছে বলেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠকের আরো কয়েকটি কারণ : এ দিকে সচিব পর্যায়ের বৈঠকটি আরো কয়েকটি কারণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে গঙ্গার পানি বণ্টনে পানি কম পাওয়ার বিষয়টিসহ আরো কয়েকটি নদী নিয়ে পর্যালোচনা। রয়েছে সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা। ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, সীমান্ত নদীর ভাঙন রোধসহ নদীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো, যা দীর্ঘ দিন আলোচনায় আসছে না।
মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, নদীর পানি ভাগাভাগি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি নিরসনে মূলত যৌথ নদী কমিশনের বৈঠককে নিয়মিত করতে সচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে ঢাকায়। এতে বাড়তি কিছু আশা করা ঠিক হবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, তিস্তার পানি ভাগাভাগি নিয়ে অনেক উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়ে আছে। এ ইস্যু নিয়ে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে কোনো ধরনের আলাপ-আলোচনা বা মন্তব্য কূটনৈতিক ভাষায় শালীন বলে মনে হয় না। আসলে একটা অচলাবস্থা ভাঙতেই বসছে দুই দেশ। আর এ জন্য একে একটি সৌজন্য বৈঠক বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।



