নবম-দশম শ্রেণীর জন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক পাঠ্যকৃত ইংলিশ গ্রামার ও কম্পোজিশন বইয়ে ১৫ পৃষ্ঠাজুড়ে আলোচনা করা হয়েছে গ্রাফস অ্যান্ড চাটর্স বিষয়ে।
গ্রাফস ও চার্টস-সংক্রান্ত আলোচনায় ডায়াগ্রাম, পাই চার্ট, দণ্ড, লাইন গ্রাফ, চার্টস, টেবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে তার আলোচনা করা হয়েছে। গ্রাফ ও চার্টে উপস্থাপিত তথ্য, পরিসংখ্যান এর বিবরণ লেখা শেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, ইংরেজি প্রথম পত্রে ১০ নম্বরের একটি প্রশ্ন থাকে। সেই প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র বা গ্রামার বইয়ের গ্রাফস ও চার্টস অধ্যায় থেকে। পরীক্ষায় জ্যামিতির সম্পাদ্যের উত্তর যেভাবে লিখতে হয় অনেকটা সেভাবে গ্রাফ ও চার্টের প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। প্রশ্নে গ্রাফ বা চার্টের চিত্র থাকে। তার বিবরণ লিখতে হয় কখনো কখনো।
গ্রাফস ও চাটর্স অধ্যায়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে শহরে লোকসংখ্যা, বসবাসের পরিসংখ্যান, বাংলাদেশে ১০ বছরে জিডিপি হার, বিভিন্ন দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয়, কোনো একটি শহরে লোকজনের গাড়ি ব্যবহারের হার, বিভিন্ন শহরে পরিবার-প্রতি খরচের পরিসংখ্যান, শেয়ার মূল্যের ওঠানামা, বিভিন্ন দেশে মাতৃমৃত্যুর হার, বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন কোম্পানির মোবাইল ফোন সেট বিক্রির পরিসংখ্যান চার্টস ও গ্রাফস আকারে উপস্থাপন করে আলোচনা করা হয়েছে।
যেমন একটি দণ্ড চিত্রে ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামে ২০১০ সালের জাতীয় আয়ের তথ্য উপস্থাপন করে বলা হয়েছে দেড় শ’ শব্দে এ বিষয়ে একটি বিবরণ লিখতে।
অনেক অভিভাবক জানান, ইংরেজি গ্রামারের সাথে গ্রাফস ও চার্টের কোনো সম্পর্ক আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। এসব আমরা গণিত, অর্থনীতি, ভূগোল, পরিসংখ্যানসহ অনেক বিষয়ে দেখেছি। তা ছাড়া প্রশ্ন আসে ইংরেজি প্রথম পত্রে আর তার উত্তর লিখতে হয় ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র তথা গ্রামার বই থেকে। এটিও একটি বেখাপ্পা অবস্থা।
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে অবস্থিত নাম করা একটি স্কুলের ইংরেজির একজন শিক্ষক বলেন, গ্রাফস ও চার্টের সাথে ইংরেজি গ্রামারের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এটি একটি সহজ বিষয় শিক্ষার্থীদের কাছে। তাই এ নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। কর্তৃপক্ষ পাঠ্য করেছে। আমরা পড়াচ্ছি। শিক্ষার্থীরা পড়ছে।