মাধ্যমিকে ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত ইংরেজি গ্রামার বই পাঠ্য করা হয়েছে। তবে শুধুমাত্র সপ্তম শ্রেণীর ইংরেজি গ্রামার বইয়ে ফর্মস অব ভার্বস বা ভার্বের পরিবর্তন উল্লেখ করা হয়েছে। সেটাও পূর্ণ আকারে উল্লেখ করা হয়নি। পূর্বে ইংরেজি গ্রামার বইয়ে ভার্বের তিনটি রূপ তথা প্রেজেন্ট, পাস্ট ও পাস্ট পার্টিসিপল হিসেবে উল্লেখ থাকত। কিন্তু সপ্তম শ্রেণীর বইয়ে শুধুমাত্র ভার্বের প্রেজেন্ট ফর্ম উল্লেখ করা হয়েছে। পাস্ট ও পাস্ট পার্টিসিপল ফর্ম উল্লেখ না করে কিভাবে রেগুলার ভার্বকে পাস্ট ফর্মে রূপান্তর করতে হবে তার নিয়ম বলে দেয়া হয়েছে। শুধু ইররেগুলার ভার্বের তিনটি ফর্ম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভার্বকে রেগুলার ও ইররেগুলার দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে বইয়ে। যে ভার্বের শেষে ‘ইডি’ যোগ করে পাস্ট ফর্মে রূপান্তর করা হয় তাকে রেগুলার ভার্ব হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। এরপর এ জাতীয় অনেক শব্দের শুধুমাত্র প্রেজেন্ট ফর্ম উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে অনেক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক ক্ষুব্ধ। তাদের মতে ভার্বের পরিবর্তন ইংরেজি ভাষা ও ব্যাকরণের খুবই উল্লেখযোগ্য একটি বিষয়। কিন্তু বর্তমানে পাঠ্যকৃত ইংরেজি ব্যাকরণ বইয়ে এ বিষয়টি খুবই উপেক্ষা করা হয়েছে। রাজধানীর একটি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, পূর্বে ইংরেজির যত ব্যাকরণ বই ছিল তার প্রত্যেকটিতে ফর্মস অব ভার্বস বা ভার্বের পরিকর্তন খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় ছিল। টেন্স পড়তে গিয়ে এগুলো তাদের জানতে হতো। আলাদা করে পরীক্ষায় এ বিষয়ে প্রশ্নও আসত। প্রত্যেক ক্লাসের ব্যাকরণ বইয়ে ফর্মস অব ফার্বের বড় একটি তালিকা থাকত। তালিকায় তিনটি কলাম থাকত। প্রেজেন্ট, পাস্ট ও পাস্ট পার্টিসিপল শিরোনামে এ ঘরগুলো থাকত। প্রত্যেকটি ক্রিয়াবাচক শব্দের পাস্ট ও পাস্ট পার্টিসিপল রূপ দেয়া থাকত। প্রতিটি শব্দের পাশে বাংলা অর্থ দেয়া থাকত। শব্দের পাশে বাংলা অর্থ দেয়া থাকায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শব্দ জ্ঞান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক ছিল এটি। আমি অনেক ইংরেজি শব্দের অর্থ শিখেছি গ্রামার বইয়ের এ ফর্মস অব ভার্বস থেকে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্লাসের ইংরেজি গ্রামার বইয়ের ভার্বের পরিবর্তনের এ তালিকায় অনেক পুনরাবৃত্তি থাকত। কিন্তু তা কখনো আমাদের একঘেয়ে লাগেনি। কারণ এভাবে বারবার অনুশীলনীর ফলে অনেক শব্দের অর্থ ও বিভিন্ন রূপ আমাদের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে বসে যেত।
বর্তমানে প্রতি ক্লাসের গ্রামার বইয়ে অনেক বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা শুধুমাত্র এক ক্লাসের বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাও অনুল্লেখযোগ্যভাবে।
ভার্বের পাস্ট ও পাস্ট পার্টিসিপল ফর্ম আলাদাভাবে উল্লেখের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাজধানীর মাধ্যমিকের একজন ইংরেজি শিক্ষক বলেন, এটি তুলে ধরলে শব্দগুলো শিক্ষার্থীদের চর্চায় আসত। তা ছাড়া অনেক শব্দের শেষে ‘ওয়াই’ বর্ণ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র শেষে ‘ইডি’ বসিয়ে দিলেই পাস্ট করা হয় না। বরং ‘ওয়াই’ এর স্থলে কোথাও ‘আইইডি’ বসাতে হয় আবার কোথাও ‘আইইডি’ বসাতে হয় না। ‘ওয়াই’ বহাল রেখেই ‘ইডি’ বসাতে হয়। এসব নিয়ম শিক্ষার্থীরা জানবে কিভাবে যদি এগুলো রূপান্তর করে দেয়া না থাকে বা নিয়ম বলা না থাকে।
তিনি বলেন, পূর্বের ব্যাকরণ বইয়ে যেভাবে ফর্মস অব ফার্বস ছিল সেভাবে এটা উল্লেখ করলে ভালো হতো। অর্থাৎ শব্দের পাসে বাংলা অর্থ এবং প্রতিটি শব্দের তিনটি রূপ থাকলে শিক্ষার্থীদের উপকার হতো। এগুলো পড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ত।



