কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের ‘বিবেকী নীতিতে’ সব ধরনের সামরিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনের সশস্ত্র বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বেইজিং সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে এক বৈঠকে এ সমর্থনের কথা জানিয়েছে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গতকাল মঙ্গলবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের সাথে বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তান যে বিবেকী নীতিগত অবস্থান নিয়েছে তার প্রশংসা করেন চীনের সামরিক কমান্ডাররা। এ ছাড়া কাশ্মির ইস্যুতে ইসলামাবাদের পাশে থাকায় বেইজিংয়ের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করতে বেইজিং গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল মঙ্গলবার চীন পৌঁছলে তাকের দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী লু শুগাং ও পাকিস্তানে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জিং অভ্যর্থনা জানান। সফরে জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে ইমরান খানের।
গত বছর আগস্টে দায়িত্ব নেয়ার পর এটা ইমরান খানের তৃতীয় চীন সফর। তিনি এমন সময় চীনে সফর করলেন যখন চলতি সপ্তাহেই ভারতে সফর করার কথা শি জিনপিংয়ের। অনানুষ্ঠানিক এই সফরে চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। তবে চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি। তার আগে ইমরানের এই চীন সফরকে ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট জিনপিং ছাড়াও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সাথেও বৈঠক করার কথা ইমরান খানের। তাদের সাথে থদুই দেশের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। কথা হবে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়েও। মঙ্গলবার চীন-পাকিস্তান বাণিজ্য সম্মেলনে অংশ নেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চীনের সাথে বন্ধুত্ব জোরদার করতেই এই সফর তার। চীনের শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে ৬০ বিলিয়ন ডলার সিপিইসি প্রজেক্টের বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
উল্লেখ্য, এখন ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মিত্র ইসলামাবাদ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি সমরাস্ত্র কিনেছে চীনের কাছ থেকে। যেকোনো পরিস্থিতি একে অপরের বন্ধু হিসেবে পরিচিত চীন-পাকিস্তান।
ভারত সরকার গত আগস্টে কাশ্মিরকে বিশেষ মর্যাদাদানকারী সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি তুলেছিল চীন। সেনাপ্রধান বলেছেন, কাশ্মির নিয়ে জাতিসঙ্ঘের প্রস্তাবের প্রতি সম্মান জানাতে হবে ভারতকে। এ ছাড়া অবরুদ্ধ কাশ্মিরিদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো চীন সফর করছেন ইমরান খান। এই সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী লি কেনিয়াংয়ের সাথে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন পাক-প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের মাধ্যমে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয় ভারত। তারপর থেকেই প্রতিবেশী পাকিস্তানের সাথে ভারতের নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চীনে পা রাখলেন ইমরান খান।
পাকিস্তানের কাশ্মির নীতিকে সমর্থন দেবে চীন
কাশ্মির ইস্যুতে পাকিস্তানের ‘বিবেকী নীতিতে’ সব ধরনের সামরিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীনের সশস্ত্র বাহিনী। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সাথে বেইজিং সফররত পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সাথে এক...



