স্থানীয় লোকজন গতকাল ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে রক্তাক্ত একটি বস্তা রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বস্তা খুলে দেখতে পায় ক্ষতবিক্ষত এক কিশোরীর লাশ! পুলিশ জানায়, কে বা কারা হত্যা করে ওই নারীর লাশটি বস্তাবন্দী করে রাস্তার পাশেই ফেলে রাখে রাতের কোনো একসময়। ওই নারী লাশের বাম কান কাটা, দুচোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে, লজ্জাস্থানেও জখমের চিহ্ন আছে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ফতেহ আলী মায়েরপাড়া এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির নাম আয়েশা বেগম (১৪)। সে ওই এলাকার জামাল উদ্দিনের কন্যা। নিহত আয়েশা বেগম মগনামা মাঝিরপাড়া শাহ রশিদিয়া আলিম মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। নিহতের ভাই আবদুল মালেক জানান, তার বোন আয়েশা আগের দিন সকালে মাদরাসায় যাওয়ার জন্য বইপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরে তারা বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাসায় খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে সকালে আবার খোঁজাখুঁজি করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত নরপশুদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি’।
আয়েশার মা নাছিমা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার মেয়ে বইখাতা নিয়ে সকালে মাদরাসায় গিয়েছিল। সন্ধ্যায় ফিরে না আসায় আমরা সম্ভাব্য সব স্থানে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে মনে করেছি কোনো বান্ধবীর বাসায় হয়তো গিয়েছে; কিন্তু আমার জাদুমনিরে কে মারল আমি জানি না।’
মগনামা মাঝিরপাড়া শাহ রশিদিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ নূর বলেন, ‘আয়েশা বেগম আমাদের মাদরাসার নবম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্রী ছিল। সে ২০ তারিখও মাদরাসায় উপস্থিত ছিল। ঘটনার দিন সে মাদরাসায় আসেনি। পরে জানতে পারলাম রাস্তার পাশে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার লাশ পাওয়া গেছে।’
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজমের কাছে জানতে চাইলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ‘আমরা লাশটি উদ্ধার করে ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছি। নিহত ওই ছাত্রীর শরীরে আঘাতের বহু চিহ্নহ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাশের ধরন দেখে মনে হচ্ছেÑ কেউ প্রচণ্ড ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যা করে বস্তাবন্দী করে রাস্তার পাশে ফেলে যায়। তিনি জানান, পুলিশ হত্যাকারীকে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।