কক্সবাজারের টেকনাফে গতকাল পুলিশের কাছে দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ করেছে ২১ ইয়াবা কারবারি। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আমাদের দেশে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা আসছে। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ। অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইয়াবা কারবারিরা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে ১০টি অস্ত্র ও ২১ হাজার ইয়াবা। এরা সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত ইয়াবা কারবারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ী। এর আগে গত বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে প্রথম দফায় তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত ১০২ জন ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণ করেছিল।
খন্দকার গোলাম ফারুক আরো বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত করে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে মিয়ানমার। সেই মিয়ানমার থেকে বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার ইয়াবা আনছে এ দেশীয় ইয়াবা কারবারিরা। এটি নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার মতো। মাদক, দুর্নীতি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সে রয়েছেন। সেটি বাস্তবায়নে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। আজকের আত্মসমর্পণ তারই একটি অংশ।’
ডিআইজি বলেন, ’৯০-এর দশকের শেষ দিকে উগ্রবাদ চরমভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। জিরো টলারেন্স নীতির কারণে তা দমনে সফলতা পেয়েছি। ইয়াবাও বন্ধ হবে ইনশাআল্লাহ। দোষ স্বীকার করে যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তাদের সাধুবাদ জানাই। আর যারা এখনো বাইরে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশের কেউ মাদকের সাথে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার ঠিকানা হবে কারাগার। একইভাবে নিরীহ কাউকে মাদক কারবারি সাজানোর চেষ্টা করলে কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোরভাবে হাঁটছি।’
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ বাহাদুর, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, টেকনাফ উপজেলা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা ও মাওলানা মুফতি কিফায়েত উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারীদের পক্ষে মোহাম্মদ তৈয়ব বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘ইয়াবা অঢেল টাকা দেয়, কিন্তু শান্তি দেয় না। এই ব্যবসার সাথে জড়ানোর পর স্বজনদের নিয়ে একটি ঈদও করতে পারিনি।’