কক্সবাজারের টেকনাফ মোচনী জাদিমুরা ক্যাম্পসংলগ্ন গভীর পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত জকির বাহিনীর সাথে র্যাবের গোলাগুলিতে সাতজন নিহত হয়েছে। মধ্যরাত থেকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সাথে র্যাব সদস্যদের দফায় দফায় গোলাগুলি হয়। এ সময় বেশ কিছু অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১৫ টেকনাফ ক্যাম্পের কমান্ডার লে. মির্জা শাহেদ মাহতাব জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে সন্ত্রাসী জকির বাহিনী অবস্থানের খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময় র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। গোলাগুলিতে সাতজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নিহত হয়।
এদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নুর হোসেন ওরফে নুরাইয়া, মো: ফারুক ওরফে ডাকাত ফারুক, শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মো: ইমরান ও মোহাম্মদ আলী। নিহতদের মধ্যে বাকি তিনজনের নামপরিচয় জানা যায়নি।
গতকাল সোমবার ভোর রাত ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে অভিযানটি পরিচালনা করে র্যাব-১৫ এর একটি টিম।
কক্সবাজার র্যাব-১৫ অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, টেকনাফের শালবাগান ও জাদিমুরাসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপের উপস্থিতির গোপন সংবাদ পেয়ে র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাব সদস্যরা রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপের আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাতরা র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। এতে চার র্যাব সদস্য আহত হয়। পরে র্যাব আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় চার ঘণ্টা উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের পর ডাকাত গ্রুপের সদস্যরা পিছু হটে। পরে র্যাব ঘটনাস্থল তল্লাশি করে সেখানে সাতজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিকৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো বলেন, অভিযানে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে তিনটি বিদেশী পিস্তল, সাতটি ওয়ান শুটার গান, ১২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি এবং ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত সদস্যদের লাশ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পৃথক তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাত রোহিঙ্গা ডাকাতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সশস্ত্র ডাকাতদের আস্তানায় পুলিশের বড় ধরনের অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। শিগগির সেখানে রোহিঙ্গা অপরাধীদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।
শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা যুবক বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক বেশ কয়েকটি ডাকাত দল ক্যাম্পের আশপাশের পাহাড়ে সক্রিয় রয়েছে। তারা দিনদুপুরে ক্যাম্পের ভেতরে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রবাজি করে থাকে। ক্যাম্পে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারে না। তারা গহিন পাহাড়ে অবস্থান করায় বিভিন্ন সময়ে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অভিযানে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বয়োবৃদ্ধ রোহিঙ্গা হোছন আলী বলেন, ক্যাম্পের উঠতি বয়সের রোহিঙ্গা তরুণরা ডাকাত দলের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছিল। জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র ডাকাতদের ধরতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখা দরকার।
বিজিবির সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১ : এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সাথে বন্দুকযুদ্ধে এক ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানায় বিজিবি। গতকাল ভোরে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা খালসংলগ্ন এলাকায় ইয়াবা উদ্ধার করতে গেলে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে বলে জানান ২ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: ফয়সাল হাসান খান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দেড় লাখ পিস ইয়াবা, একটি দেশে তৈরি অস্ত্র ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।