খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সাথে বিজিবির সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্য ও একই পরিবারের চারজনসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার গাজীনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা ঘটনার জন্য বিজিবিকে দায়ী করে বলেন, সকালে গাছ কাটতে গেলে বিজিবি সদস্যদের বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে গ্রামবাসীর ওপর অতর্কিত গুলি চালায় বিজিবি সদস্যরা।
অন্য দিকে বিজিবি জানায়, অবৈধভাবে গাছ কাটার সময় বিজিবি সদস্যরা বাধা দিলে স্থানীয়রা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে বিজিবি সদস্য শাওন ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে আত্মরক্ষার্থে বিজিবি গুলি চালালে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেনÑ ৪০ বিজিবির সিপাহি শাওন (৩৫), স্থানীয় বাসিন্দা সাহাব মিয়া (মুছা) (৭০), আহমেদ আলী (৩০), আলী আকবর (৩০)।
স্বামী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনে আলুটিলা বটতলীর নিজ বাড়িতে সাহাব মিয়ার স্ত্রী নঞ্জু বেগম (৬০) স্ট্রোক করে মারা যান। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো দু’জন মাফিজ মিয়া ও হানিফ মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে ফটিকছড়ি এলাকায় মফিজ মিয়া (৫০) মারা যান।
এ দিকে ঘটনার পর বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহরিয়ার জামান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম সারাহ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশ। এ সময় রিজিয়ন কমান্ডার ঘটনা তদন্ত করে বিচারের আশ^াস দিয়ে এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। ওসি শামছুদ্দিন ভূঁইয়া জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করবে বলেও জানান তিনি। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মাটিরাঙ্গা সার্কেল) খোরশেদ আলম বলেন, সংঘর্ষের কারণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। তদন্তের পর সঠিক কারণ জানা যাবে।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
বিজিবি সদরের বক্তব্য : বিজিবি সদর দফতর থেকে বলা হয়, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার গাজীনগর বাজার থেকে ১০০ গজ দক্ষিণে বিজিবির একটি টহল দল অবৈধ কাঠ পাচাররোধে ব্যবস্থা নিলে স্থানীয় লোকজন বিজিবি টহল দলকে ঘিরে ধরে। এতে বিজিবি টহল দল ও জনগণের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় বিজিবির এক রাউন্ড ফাঁকা ফায়ার ও ধাক্কাধাক্কির রেশ ধরে এক পর্যায়ে বেসামরিক লোকজন বিজিবির অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে বিজিবির সিপাহি শাওন ও পাঁচজন বেসামরিক জনগণের গায়ে গুলি লাগে। এতে বিজিবি সদস্য শাওন ও বেসামরিক চারজন মৃত্যুবরণ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির গুইমারা সেক্টর কমান্ডার, সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা পৃথকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। সামগ্রিক ঘটনা তদন্ত শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিবিসি জানায়, ঘটনায় আহত হয়েছন আরো অন্তত ১৫ জন।
মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, সকালে গাজীনগর গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গল থেকে আসা কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক থামায় বিজিবির টহল দল। এরপর গাছ কাটা বা কাঠ নিয়ে যাওয়ার অনুমতিপত্র চাওয়া নিয়ে ট্রাকের চালক ও অন্যদের সাথে বিজিবির তর্ক ও বাদানুবাদ শুরু হয়। সেই বাদানুবাদ থেকে ঘটনা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। এতে জড়িয়ে পড়ে গ্রামের অন্য বাসিন্দারাও। একপর্যায়ে বিজিবি গুলি ছোড়ে। তারপর সংঘর্ষ আরো বড় আকার ধারণ করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এ দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাহিদা আক্তার বিবিসিকে জানান, সংঘর্ষের পর হাসপাতালে প্রথমে চারজনকে নিয়ে আসা হয়েছিল, যাদের মধ্যে দুইজন তখন মৃত ছিলেন। তাদের একজন বিজিবি সদস্য।
গাজীনগর ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে এখন বিজিবি, সেনাবাহিনী এবং বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে মাটিরাঙ্গা জুড়ে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আহতদের খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।
গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে বিজিবিসহ নিহত ৬
খাগড়াছড়িতে গাছ কাটা নিয়ে ঘটনায় আটক ২
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর সাথে বিজিবির সংঘর্ষে এক বিজিবি সদস্য ও একই পরিবারের চারজনসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার...



