কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৩ জনের নামে মামলা হয়েছে। বুধবার রাতে কুমারখালী থানায় জর্জের সমর্থক জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিজ, রবি রহমান ও শিমুল আহমেদ খান। ওই মামলায় বুধবার দিবাগত রাতেই শহরের নারকেলতলা এলাকায় তার শ্বশুরবাড়ি থেকে মোমিনুর রহমান মোমিজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় আইসিটি আইনের মামলায় মোমিজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমপির নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে আইসিটি আইনে কুমারখালী থানায় মামলা হয়েছে। মামলার বাদি জহিরুল ইসলাম বলেন, সেলিম আলতাফ জর্জকে নিয়ে মানহানিকর ও মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ও শেয়ার করার অপরাধে মামলা করেছি।
শিক্ষক হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর হোগলা মহন্দ্রেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলাম হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক অরূপ কুমার গোস্বামী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলোÑ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দয়রামপুর এলাকার মৃত মুন্সী রেজাউল করিমের ছেলে এবং নিহত শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলামের ভাতিজা মুন্সী মো: সোহাগ (৩৫)। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলোÑ কুমারখালী উপজেলার দয়রামপুর এলাকার মৃত মজিবরের ছেলে রাজু আহম্মেদ (৩৫), কোমরকান্দি এলাকার ইয়াকুবের ছেলে রুবেল (৩৫) এবং দুর্গাপুর এলাকার হাতেম শেখের ছেলে আজাদ (৪০)। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি রাত ১টার দিকে হোগলা মহেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুন্সী রবিউল ইসলাম তার চাচাতো ভাইয়ের ইটভাটার কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ইটভাটার দায়িত্ব নেয়া নিয়ে ভাতিজা সোহাগের সাথে বিরোধ চলে আসছিল তার। এ জন্য মোবাইলে বিভিন্ন সময়ে ওই শিক্ষককে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। ২৪ জানুয়ারি একদল সন্ত্রাসী তার মাথায় ও পাঁজরে গুলি করে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় রবিউল ইসলামকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরদিন ২৫ জানুয়ারি নিহত রবিউল ইসলামের মা হাওয়া খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানা পুলিশের উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) এস এম আরিফুর রহমান ২০১৬ সালে ৩০ এপ্রিল চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, শিক্ষক রবিউল ইসলাম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তার আপন ভাতিজা মুন্সী মো: সোহাগের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।