ফেনী পৌরসভার বারাহিপুরে গতকাল বুধবার দুপুরে এক যুবক ফেসবুক লাইভে এসে উপর্যুপরি কুপিয়ে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘাতক ওবায়দুল হক ভূঞা টুটুলকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর গ্রামের গোলাম মাওলা ভূঞার ছেলে ওবায়দুল হক ভূঞা টুটুল প্রেম করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আকদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের মেয়ে তাহমিনা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাফান্নুন আরোয়া মায়োস নামে তাদের ১৮ মাস বয়সের একটি মেয়ে রয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ওবায়দুল হক ভূঞা টুটুল ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করত। স্ত্রী ও মেয়ে ফেনীর বাড়ীতেই থাকত। করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপেক্ষিতে ঢাকায় লকডাউন দেয়া হলে ওবায়দুল হক ফেনীর বাড়িতে চলে আসে। স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার আগ মুহূর্তে ফেসবুক লাইভে ওবায়দুল হক সবার কাছে মাফ চায় এবং ঘটনার জন্য সে নিজেই দায়ী বলে স্বীকার করে। এ ছাড়া পারিবারিক অশান্তির জন্য স্ত্রীকে দায়ী করে। তার অভিযোগ, স্ত্রী পরিবারকে ব্লাকমেইল করত। লাইভে দেখা যায়, উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যার পর স্ত্রীর নিথর দেহের পাশে বসে সে বলে, আজ থেকে তার পরিবার আর কোনো ব্লাকমেইলের শিকার হবে না। তার মেয়েটাকে ও ভাইবোনকে দেখভালের জন্য সবার কাছে অনুরোধ জানায়। ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। হত্যাকারী নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি জানায়। পুলিশ ওই কক্ষ থেকে টুটুলকে গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



