কক্সবাজারের টেকনাফে অপহৃত ৬ জন কৃষকের একজনকে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রোহিঙ্গা ক্যাম্প (২২ নাম্বার) উনছিপ্রাং পুটিবনিয়ার পশ্চিমে ছনখোলা থেকে ওই কৃষকের গুলিবৃদ্ধ লাশ উদ্ধার করা করেছে।
উদ্ধার হওয়া লাশটি মৌলভী আবুল কাছিমের পুত্র আকতারুল্লাহ (২৪) এর বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। টেকনাফ থানার পুলিশ জানিয়েছেন, স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ দিকে কৌশলে অপহৃত তিনজন ফিরে এলেও বাকি দুইজনের জন্য ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অন্যথায় তাদেরও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে রোহিঙ্গা হাকিম ডাকাতের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত আক্তার পেশায় একজন কৃষক। সে ফকিরের ঘোনা এলাকায় শসা ক্ষেত দেখতে গিয়েই রোহিঙ্গা ডাকাত দলের হাতে অপহৃত হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে উপজেলার হোয়াইক্যং মিনাবাজার শামসু হ্যাডম্যানের ঘোনায় বিশেষ টং তৈরি করে বন্য হাতির তাণ্ডব থেকে ক্ষেত ও ধান চাষাবাদ রক্ষার জন্য ছয়জন কৃষক ধানক্ষেতে পাহারা দিচ্ছিল। এমন সময় সশস্ত্র একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে।
অপহৃতরা হলেনÑ পশ্চিম মিনা বাজার ঘোনাপাড়া এলাকার কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই ছেলে জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের ছেলে আকতারুল্লাহ (২৪) ও মৃত মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে ইদ্রিস।
সেখান থেকে চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর বিনিময়ে হাসেমসহ তার দুই ছেলেকে ছেড়ে দেয়। অপহৃত শাহেদের মোবাইল থেকে তার পরিবারের নিকট ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় তাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ভোরে ওই কৃষককে মাথায় গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে পরিবার-পরিজনকে খবর দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।
খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গহীন পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখে। একটি পাহাড়ে হাকিম ডাকাতের আস্তানার সন্ধান পেলেও তাদের পাওয়া যায়নি। অপহৃতদের উদ্ধার না হওয়া ও সশস্ত্র ডাকাতদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানা যায়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, পাহাড়ে অবস্থানকারী সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা অত্র ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদের চাষা ও বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং নির্মমভাবে খুন করছে। অবিলম্বে এলাকাবাসীকে এসব থেকে রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান তিনি।