করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ব। আতঙ্কে উদ্বেগে স্থবির ও অচল সব কিছু। মানুষের জীবনের মূল্যকেই সবাই বড় করে দেখছেন। কিন্তু এই মহাদুর্যোগেও মানবতার টানে অতীতের সব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতোই নির্ভীকচিত্তে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সামাজিক দূরত্ব বা হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতের বৃত্তের ভেতরই নিজেদের বন্দী না করে মানবিক হৃদয় নিয়েই দেশের প্রতিটি জেলায় করোনার ছোবলে নিঃস্ব, অভাবী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেনারা। এরই অংশ হিসেবে মার্চ মাস থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কক্সবাজারের মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন। কক্সবাজারের পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামের ৪টি উপজেলায়ও একইভাবে কাজ করছেন সেনাসদস্যরা। গত ৮ এপ্রিল থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউনের পর থেকে সেনাসদস্যরা দিনরাত খাটছেন।
করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ায় ঝুঁকির মুখে পড়েছে বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো। গত দুই দিনে এই তিনজন রোহিঙ্গার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ পরিস্থিতিতে উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার ৩৪টি ক্যাম্পে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই সেনাসদস্যরা সচেতনতামূলক তৎপরতা পরিচালনা করছে।
রামু সেনানিবাস সূত্র জানিয়েছে, করোনা রোধে ক্যাম্পে সামাজিক দূরত্ব, লকডাউন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর টহল ও চেকপোস্টের কার্যক্রম বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশদ্বার উখিয়াতে ডিজইনফেকশন বুথ স্থাপন করে সব গাড়ি জীবাণুমুক্ত করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে করেনা আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের সংস্পর্শে আসা পরিবার ও অন্য ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতসহ জায়গাগুলো লকডাউন করা হয়েছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা রোহিঙ্গাদের লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে ইতোমধ্যে ওই ব্লকের ১,২৭৫ টি ঘর রেড মার্ক করে লাল পতাকা দিয়ে লকডাউন করা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রবেশদ্বার উখিয়াতে ডিজইনফেকশন বুথের মাধ্যমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বহনকারী ছোট বড় সব যানবাহন, জরুরি প্রয়োজনে প্রবেশকৃত গাড়িগুলোকে জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি প্রত্যেক গাড়ির বারকোড স্ক্যান করে শুধু অনুমতিপত্র সাপেক্ষে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন সেনাসদস্যরা। পাশাপাশি সেনাসদস্যরা ক্যাম্পগুলোতে মাইকিং করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সম্যক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনা প্রয়োজনে ক্যাম্প থেকে বের না হতে সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বেশি বেশি হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করছেন। ক্যাম্পে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মিয়ানমার নাগরিক ক্যাম্প এলাকায় স্থাপিত সেনাবাহিনীর চেকপোস্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়েছে যৌথ টহল কার্যক্রমের পরিধি। বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে বহিরাগতদের চলাচলেও। অন্য দিকে উদ্বাস্তু ক্যাম্পে মোতায়েনকৃত সেনাক্যাম্পগুলোর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।