করোনায় থমকে গেছে আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন। সম্মেলনের প্রায় সাত মাস পরও এ কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। আর কবে নাগাদ কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না বলে সংগঠনের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে।
এ দিকে কমিটি গঠনের সময় চূড়ান্ত না হলেও লবিং তদবিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা। করোনার মধ্যেও যে যার মতো করে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি কাদা ছোড়াছুড়িতে ব্যস্ত রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে। কখনো সরাসরি, কখনো গোপনে আবার কখনো ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরছেন একে-অপরের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে মামলা করার হুমকিও দিচ্ছেন কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে সংগঠনের অভ্যন্তরে।
ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর গত বছর ২৩ নভেম্বর যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই কংগ্রেস উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিনই যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর পর প্রায় সাত মাস পার হলেও এখনো পর্যন্ত সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কমিটি বিলম্বের জন্য করোনা মহামারীকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্য নেতাদের বায়োডাটা যাচাই-বাছাই চলছে।
এ দিকে সংগঠনের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কাক্সিক্ষত পদ পেতে মরিয়া হয়ে পড়েছেন নেতারা। সেই লক্ষ্যে জোর লবিং তদবির চালাচ্ছেন যে যার মতো করে। করোনার মধ্যেও ধর্ণা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও যুবলীগের বড় ভাইদের দ্বারে। করোনায় পদপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরছেন নিজে অথবা সমর্থকদের দিয়ে। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী পদপ্রত্যাশীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও কুৎসা রটানো হচ্ছে কখনো সরাসরি আবার কখনো ফেসবুকে। সর্বশেষ গত শনিবার গভীর রাতে বর্তমানে দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট করেন একই পদে প্রত্যাশী আরেক নেতা। এতে লাইক ও কমেন্টস করেন পোস্টদাতার অনুসারীরা। আবার মনিরের সমর্থকরাও পাল্টা কমেন্টস করেন ওই পোস্টে। পরে মনির এসব অভিযোগকে বানোয়াট উল্লেখ করে আইসিটি আইনে মামলার হুমকি দিলে মুহূর্তেই সেই পোস্ট ডিলিট করে দেয়া হয়। ততক্ষণে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পোস্টটির স্ক্রিন শর্ট নিয়ে পোস্টদাতার সমর্থকরা বিভিন্ন নেতাদের কাছেও পাঠান। আবার মনিরের সমর্থকরাও পোস্টের নিচে তীর্যক মন্তব্যের স্ক্রিন শর্ট নিজেদের পক্ষে তুলে ধরেন। এভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে পদপ্রত্যাশী একে-অপরের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম হাওলাদার মনির এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘সামনে যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়েছে। যারা এসব অভিযোগ আনেন তারা আমাকে কাক্সিক্ষত পদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করছেন। আমি দীর্ঘদিন যাবৎ যুবলীগের সাথে জড়িত। দফতরের দায়িত্বে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংগঠনের হাইকমান্ড আমাকে ভালো করে জানেন। এ ছাড়া দফতরে কাজ করার সুবাদে আমি সব সময় সাংবাদিক ভাই-বোনদের সাহায্য-সহযোগিতা পেয়েছি। তারাও আমার সম্পর্কে ভালো করে জানেন। কেউ কোনো দিন আমার বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনতে পারেননি। আমি এবং আমার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পদের তথ্য যে কেউ চাইলে যাচাই করতে পারে। আমি সাধুবাদ জানাব।’
যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে করোনা মহামারীর কারণে কমিটি গঠন খানিকটা বিলম্ব হচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই নেত্রীর অনুমোদন নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হবে।’



