কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে ১০টি পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় এলাকাবাসী এই অপসারণ শুরু করে। এই কার্যক্রমের সূচনা করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভেসে আসে প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য ও ছেঁড়া জাল। বর্জ্যরে সাথে কয়েক শ’ কাছিমও ভেসে আসে। সৈকতে জোয়ারের পানিতে কেমন করে এবং কেন এসব বর্জ্য আসছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনা উদঘাটনের জন্য ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের পরই জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা। তবে সমুদ্রপৃষ্টে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হওয়ায় সমুদ্রে জমে থাকা এসব বর্জ্য ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তদন্ত কমিটি সদস্যরা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন জানান, হঠাৎ করে গত শনিবার সৈকতে ভেসে আসে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক, বোতল, রশি ও ছেঁড়া জালের বর্জ্য। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মিলে এসব বর্জ্য অপসারণে উদ্যোগ করে। তার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকাল থেকে সৈকতের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানিতে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসে প্লাস্টিক, ই-বর্জ্য ও ছেঁড়া জাল। লাবনি পয়েন্ট থেকে হিমছড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এসব বর্জ্য ভেসে আসে। এসব বর্জ্যরে সাথে থাকা জালে পেঁচানো অবস্থায় কয়েক শ’ সামুদ্রিক কাছিমও ভেসে আসে সৈকতে। উৎসাহী মানুষ এসব বর্জ্যরে মধ্যে মূল্যবান বা প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা ভেসে এসে আটকে পড়া জীবিত চার শতাধিক কাছিম সাগরে ছেড়ে দেয়। শতাধিক মৃত কাছিম মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। জেলা প্রশাসনের সহায়তায় গতকাল দুপুর থেকে এসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা বর্জ্য অপসারণ শুরু করে। সৈকতের লাবনি, সুগন্ধা, কলাতলী ও দরিয়ানগর পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা বর্জ্য অপসারণ করে।
সেভ দ্যা নেচার অব বাংলাদেশের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আছাদুজ্জামান সায়েম বলেন, সৈকতের দরিয়ানগর থেকে পয়েন্ট থেকে প্যারাসেলিং পয়েন্ট পর্যন্ত ৫টি মৃত কাছিম ভেসে আসে। সেগুলো বালিয়াড়িতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। একটি বিরল প্রজাতির কাছিম পাওয়া গেছে, তা স্পিড বোটযোগে গভীর সাগরে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদফতরের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, সাগরে বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনায় ৩০টি মতো কাছিমের মৃত্যু এবং শতাধিক কাছিমকে সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। ২টি কাছিম চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।