কক্সবাজারের টেকনাফের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন পুলিশের গুলিতে নিহত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান হত্যা মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যাবের একটি দল। গতকাল শনিবার দুপুরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুরের বাহারছড়া এবং মারিশবুনিয়া এলাকা পরিদর্শনে যান তারা। র্যাব-১৫ কক্সবাজারের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আহমদের পরিবর্তে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: খায়রুল ইসলামকে নিয়োগ করা হয়। পরদিন শুক্রবার সকালে সিনহা হত্যায় অভিযুক্তদের মধ্যে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া চার পুলিশ সদস্য ও তিন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ৪ আসামি কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়া এবং পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষী নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আয়াজ ও নেজাম উদ্দিন।
এ দিকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুতে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ‘গণশুনানি’ করতে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ রোববার সকাল ১০টায় এই গণশুনানি হবে। টেকনাফ শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জের (সিআইসি) কার্যালয়ে এই শুনানিতে প্রত্যক্ষদর্শীদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেজর (অব:) সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুজনিত ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির সদস্য মোহা. শাজাহান আলি স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর অব: সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় মেজর সিনহার বোনের করা মামলায় বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি এবং ২ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। তারা ছাড়া আরো সাতজনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। আলোচিত এই মামলায় অন্য আসামিরা হলেনÑ এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।
এ দিকে ঘটনার দিন মেজর সিনহাকে যে চেকপোস্টে থামানো হয়েছে সেটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তল্লাশি চৌকি ছিল। সেখানে অভিযান চালানোর জন্য পুলিশ সুপারের অনুমতি আগেই নিয়েছিলেন অভিযানকারী বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইন্সপেক্টর (আইসি) লিয়াকত আলী। তাই সিনহার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেই স্থানীয়দের দাবি। তারা বলছে, মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর মোড়ে এপিবিএনের চেকপোস্ট। এই চেকপোস্ট থেকে ঢাল দিয়ে নেমে দেড় কিলোমিটার ভেতরে গেলে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র। সেখানেও একটি চেকপোস্ট রয়েছে। তবে তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর লিয়াকতকে নিজেদের চেকপোস্টে দাঁড়াতে কখনো দেখেনি কেউ। ওই তদন্ত কেন্দ্রের মূল কর্মকর্তা হওয়ায় চেকপোস্টে তার দাঁড়ানোর কথাও নয়। তবে সেই ইন্সপেক্টর লিয়াকত যখন নিজেদের চেকপোস্ট ছেড়ে শামলাপুরে মেরিন ড্রাইভের মূল সড়কে এপিবিএন-এর চেকপোস্টে তার ফোর্স নিয়ে এসে দাঁড়ান তখন স্থানীয় সবাই বুঝতে পারেন এখানে বড় কোনো অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। সে দিন সিনহার মুখোমুখি হওয়ার সাত ঘণ্টা আগেই এপিবিএনের চেকপোস্টে নজরদারি শুরু করে ইন্সপেক্টর লিয়াকতের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি।



