মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত দল গতকাল পূর্বঘোষিত গণশুনানি কার্যক্রম ‘এক্সক্লুসিভলি’ সম্পন্ন করেছেন। পরে বিকেল সোয়া ৫টায় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন তদন্ত দলের প্রধান ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গণতদন্ত কার্যক্রম ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্তকাজ অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের আশা ২৩ আগস্টের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে পারব। তিনি আরো বলেন, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। তারা সেই দিনের ঘটনা সম্পর্কে যা অবলোকন করেছেন তা আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা তাদের বক্তব্য খুবই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি এবং তাদের বক্তব্য মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় চলমান তদন্ত কার্যক্রমে সংযুক্ত করা হবে। কমিটির প্রধান আরো জানান, সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার উৎস এবং কারণ তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা থাকবে। এ রকম ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য বেশ কিছু সুপারিশও দেয়া থাকবে তদন্ত রিপোর্টে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন তিনবার। সিনহা হত্যার ঘটনায় টেকনাফের বাহারছড়ায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে ৯ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে কমিটি। ১১ জনকে সাক্ষী তালিকাভুক্ত করা হলেও পরে তদন্ত দল দুইজনের সাক্ষ্য নেননি। তাদেরকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মনে না হওয়ায় তাদের সাক্ষ্য নেয়নি বলে জানান তদন্তদলের সদস্য ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাহান আলী। গতকাল বেলা ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণশুনানি শুরু হয়। এর আগেই সাক্ষ্য দিতে আগ্রহী ১১ জন প্রত্যক্ষদর্শীকে নিবন্ধন করে গণশুনানির নির্দিষ্ট কক্ষে নিয়ে যায় তদন্ত দল। বিকেল ৫টা গণশুনানি শেষ হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরুর আগে শুনানিস্থলের বাইরে অনেকে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দিতে আগ্রহ দেখান। কিন্তু আগে থেকে প্রাথমিক যাচাইয়ের মাধ্যমে ১১ জন সাক্ষী নির্বাচন করায় অন্যদের সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়নি। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এ সময় উৎসুক মানুষের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। টেকনাফের শাপলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনচার্জের কার্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে শুনানি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। শুনানিতে অংশ নেয়া একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাকেও মরতে হবে, সিনহা হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে যা দেখেছি, তাই বলেছি তদন্ত দলের কাছে।’ তদন্ত কার্যক্রম ছিল একেবারে এক্সক্লুসিভ, কক্ষে সংশ্লিষ্ট ছাড়া অন্য কারো প্রবেশ একেবারেই সঙ্কুচিত করা হয়।
শুনানিতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মনোনীত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লে. কর্নেল সাজ্জাদ, চট্টগ্রামের ডিআইজি মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলি উপস্থিত ছিলেন।
৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান। এ ঘটনায় মেজর সিনহার বোনের করা মামলায় পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি এবং ২ নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে। তারা ছাড়াও সাতজনকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। আলোচিত এই মামলায় অন্য আসামিরা হলোÑ এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এএসআই টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা।
এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গত ২ আগস্ট চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। মন্ত্রণালয় প্রথমে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত আরো সাত কর্মদিবস সময় বৃদ্ধি করেছে।
গণশুনানিতে ৯ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নিলো তদন্ত কমিটি
মেজর সিনহা হত্যা
মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ড তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত চার সদস্যের তদন্ত দল গতকাল পূর্বঘোষিত গণশুনানি কার্যক্রম ‘এক্সক্লুসিভলি’ সম্পন্ন করেছেন। পরে বিকেল সোয়া...



