পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যা মামলায় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্যকে রিমান্ডে নিয়েছে র্যাব। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে র্যাব-১৫-এর একটি দল কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় বলে জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন জানান। এরা হচ্ছেÑ এপিবিএন-এর উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, কনস্টেবল মোহাম্মদ রাজিব এবং মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের সময় এপিবিএন-এর এই তিন সদস্য শাপলাপুর চেকপোস্টে দায়িত্বরত ছিলেন। তাদেরকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সাথে সম্পৃক্ত মনে হওয়ায় র্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ আগস্ট তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ। র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, সবকিছু পর্যালোচনায় তাদের সম্পৃক্তা পাওয়া যাচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে আরো তথ্য পাওয়া যাবে তাদের কাছ থেকে।
সূত্র জানায়, তাদেরকে র্যাব হেজাফতে থাকা প্রধান আসামি প্রদীপ ও লিয়াকতের সাথে মুখোমুখি এবং পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ১৮ আগস্ট মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে আর্মড পুলিশের এই তিন সদস্যকে গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করে র্যাব।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শাপলাপুর তল্লাশি চৌকিতে গুলিতে নিহত হন মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ। এ সময় পুলিশ সিনহার সঙ্গে থাকা সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে শিপ্রাকে আটক করা হয়। দু’জনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ওই ঘটনায় ওসি প্রদীপসহ মামলায় অভিযুক্ত তিন আসামি র্যাব হেফাজতে রয়েছেন। অন্য চার পুলিশ সদস্য এবং পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষী রিমান্ড শেষে এখন কারাগারে আছেন। সর্বশেষ শুক্রবার সিনহাকে গুলি করার ঘটনা প্রত্যক্ষভাবে সরেজমিন দেখতে এবং ঘটনার বিবরণ জানতে রিমান্ডে থাকা ওসি প্রদীপ, পরির্দশক লিয়াকত ও এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিততে নিয়ে শাপলাপুর ঘুরে আসে তদন্তকারী সংস্থা র্যাব।



