জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিজ বাড়ি থেকে গৃহবধূ মুসলিমা আক্তার শিখা (৩৫) ও তিন বছর বয়সী তার ছেলে তাওহিদের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রাম থেকে ওই দুইটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়ার জেরে পারিবারিক কলহে ব্যবসায়ী হারুন অর রশীদ পলাশ তার স্ত্রী ও ছেলে সন্তানকে হত্যা করেছেন। ওই ঘটনায় ঘাতক স্বামী হারুন অর রশীদ পলাশ ও তার কথিত প্রেমিকা নূরহাজানকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত গৃহবধূ মুসলিমা আক্তার শিখা জেলার মাদারগঞ্জ পৌরসভার ঘোনাপাড়া গ্রামের মৃত মোকছেদ শেখের মেয়ে এবং হারুন অর রশীদ পলাশের স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল হারুন অর রশিদ পলাশের সাথে তার স্ত্রী মুসলিমা আক্তারের। গতকাল ভোর ৪টার দিকে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনা আঁচ করতে পেরে মাদারগঞ্জ থানায় খবর দেন প্রতিবেশীরা। নিহতদের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আরো জানা গেছে, জেলার মাদারগঞ্জের গুনারিতলা ইউনিয়নের চরগোপালপুর গ্রামের বিএডিসির সাবেক মেকানিক্স ফজলুল হকের ছেলে হারুন অর রশিদ পলাশ বেশ কিছু দিন বিদেশে ছিলেন। বিদেশ থেকে ফিরে মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ি বাজারের থানা মোড়ে সমিল স্থাপন করে কাঠের ব্যবসা শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি সমিলের ব্যবসা বাদ দিয়ে বাড়িতে মুরগির খামার দিয়েছেন। এক মেয়ে ও দুই ছেলের বাবা তিনি। ওই সমিলের ব্যবসা করার সময়ই হারুন সমিলের কাছেই নূর হাজান নামে এক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে স্ত্রী মুসলিমার সাথে তার পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। নিহত মুসলিমা আক্তার শিখার মামাতো বোন কেয়া জানান, তার দুলাভাই হারুন বেশ কিছু দিন যাবৎ পরকীয়ায় লিপ্ত হয়েছেন। ওই পরকীয়া প্রেমের কারণেই শিখা ও তার ছেলেকে খুন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন জানান, পরকীয়া প্রেমে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো দা, রক্তমাখা একটি লুঙ্গি, বিছানার চাদর ও মাছ ধরার জাল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।