অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিতের তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বিচারক। দ্বিতীয় দফা চার দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টেকনাফ-৩ আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) খায়রুল আলমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তামান্না ফারাহর আদালতে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপর দিকে অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনার নেতৃত্বে একটি আইনজীবী প্যানেল চট্টগ্রাম থেকে আদালতে হাজির হয়ে ওসি প্রদীপসহ তিনজনের জামিন আবেদন করেন। একই সাথে রিমান্ড বাতিলেরও আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানির পর কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ আবেদন দু’টি নাকচ করে জামিন নামঞ্জুর করেন এবং প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি খুবই স্পর্শ কাতর। তাই অধিকতর তদন্তের স্বার্থে আসামিদের আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন। আসামিদের চার দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা।
গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর এপিবিএনের তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব:) সিনহা মো: রাশেদ খান।
গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মো: রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে প্রদীপসহ পুলিশের ৯ জনকে আসামি করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ পৃথক তিনটি মামলা করেছে। পরে সাক্ষী অপহরণের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় আরো একট মামলা হয়েছে।
এ মামলায় এপর্যন্ত পুলিশের ৭ জন, এপিবিএনের ৩ জন ও স্থানীয় ৩ জন বাসিন্দা (পুলিশের মামলার সাক্ষী) গ্রেফতার হয়েছেন। মামলা তদন্ত করছে র্যাব।