অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জবানবন্দী দেয়নি। চার দফায় টানা পনের দিন রিমান্ড শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে গতকাল কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। চতুর্থ দফা রিমান্ড শেষে গতকাল বিকেল ৩টার দিকে র্যাবের একটি দল তাকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে হাজির করেন। এরপর তাকে বেলা ৪টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম জানান,‘সিনহা হত্যার মামলায় আটক বরখাস্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমারকে চার দফায় ১৫ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে সে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। আমরা সেসব তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। গতকাল একদিনের রিমান্ড শেষে আমরা তাকে আদালতের কাছে সোপর্দ করেছি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি আরো জানান, ওসি প্রদীপ এ মামলার দুই নম্বর আসামি। সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়নি। এর আগে গত ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে ২৪ আগস্ট ৪ দিন, ২৮ আগস্ট ৩ দিন ও ৩১ আগস্ট একদিন হিসেবে তার মোট ১৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতের আদেশ পেয়ে এই ১৫ দিন বিভিন্ন সময়ে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত সংস্থা র্যাব। সূত্র মতে, টানা রিমান্ডেও ওসি প্রদীপ জবানবন্দী দিতে রাজি হয়নি। তিনি বারবার হত্যাকাণ্ডের দায় চাপাচ্ছেন লিয়াকতের ওপর। এক মামলায় সর্বোচ্চ ১৫ দিন রিমান্ডের বাধ্যবাধকতা থাকায় তাকে আর রিমান্ডে নেয়া যায়নি। এ দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে তৃতীয়বারের মতো আবারো তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহর আদালতে তাদেরকে হাজির করে চার দিনের রিমান্ডের আবেদন করে র্যাব। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট প্রথম দফায় সাত দিন এবং ২৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। আসামিরা হচ্ছেÑ টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়ার নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দীন ও মোহাম্মদ আইয়াস। সিনহা হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে র্যাব টেকনাফের মারিশবুনিয়া এলাকা থেকে গত ৯ আগস্ট এই তিন সাক্ষীকে গ্রেফতার করে। প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শাপলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ সময় পুলিশ সিনহার সাথে থাকা সহকর্মী সিফাতকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে রিসোর্ট থেকে আরেক সহকর্মী শিপ্রাকে আটক করা হয়। দুজনই বর্তমানে জামিনে মুক্ত। আলোচিত এই মামলায় ইতোমধ্যে জবানবন্দী দিয়েছে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি লিয়াকত আলী এবং নন্দদুলাল রক্ষিত। এর আগে ২৬ আগস্ট এপিবিএন সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পরে আরো দুই এপিবিএন সদস্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় দু’টি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, এপিবিএনের তিন সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। পরে আরো ছয়জনকে আসামি করা হয়। দুইজন ছাড়া সব আসামি গ্রেফতার হয়েছেন।
জবানবন্দী দেননি প্রদীপ : কারাগারে প্রেরণ
মেজর সিনহা হত্যা
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ জবানবন্দী দেয়নি। চার দফায় টানা পনের দিন...



