কক্সবাজারে পুলিশের পেশাদারিত্ব ফেরাতে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে নবাগত পুলিশ সদস্যদের এবং পেশাদারিত্বের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করে সীমান্তে মাদক নির্মূল অভিযান সফল করতে কাজ শুরু হয়েছে। এই লক্ষ্যে কক্সবাজারে মাদক কারবারিদের নতুন তালিকা তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পরিদর্শনকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা প্রদান শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
ডিআইজি চকরিয়া থানা পুলিশ সদস্যদের প্রতি একই নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জেলায় নবাগত পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মেরিন ড্রাইভের চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনাকর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনা অপেশাদারী আচরণ। এ ঘটনায় চরম বিতর্কের কারণে কক্সবাজারে দায়িত্বরত সবাইকে একযোগে বদলি করে নতুন টিম দেয়া হয়েছে। এই গণবদলির মূল লক্ষ্য হচ্ছে পেশাদারিত্ব ফুটিয়ে তুলে মানুষের আস্থা নিবিড় করা। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে কিভাবে মাদক চোরাচালান হয়, কিভাবে তা রোধ করা যায়, তার জন্য কঠোরভাবে কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে সেই লক্ষ্যে পুলিশকে ঢেলে সাজানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কাজে গতিশীলতা বাড়ানো হবে এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে পুলিশ কাজ করবে। জেলা পুলিশে সবাই নতুন হলেও কাজের বেলায় তারা খুব সতর্ক থাকবে। জনকল্যাণকে প্রাধান্য দেয়া হবে। থানায় কোনো দালালের স্থান নেই। সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশের দরজা সবসময় উন্মুক্ত থাকবে। সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সততার সাথে কাজ করবে পুলিশ। ‘সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। পুরনো তালিকা দেখে তদন্তের মাধ্যমে নতুন তালিকা করে এ ব্যাপারে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করা হবে।
কক্সবাজারে পুলিশের নতুন মিশন
কক্সবাজার (দক্ষিণ) সংবাদদাতা জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স, পুলিশের অনিয়ম রোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাÑ এই তিন বার্তা সামনে রেখে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের নতুন মিশন। মেজর (অব:) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের পর ইমেজ সঙ্কটে পড়া পুরো কক্সবাজার জেলা পুলিশ নতুন আঙ্গিকে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন করে কক্সবাজারের ৮টি থানা, তদন্তকেন্দ্র, ফাঁড়িসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে ১৩৯ এসআই, ৯২ জন এএসআই, ১ হাজার ৫৫ জন নায়েক ও কনস্টেবলকে ইতোমধ্যে পদায়ন করা হয়েছে।
এ দিকে কক্সবাজারের নবাগত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, থানা নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের জায়গা। এখানে কোনো দালাল-টাউটকে ঘেঁষতে দেয়া হবে না। দালালরা বিন্দু পরিমাণ ছাড় পাবে না। গত ১৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন বিপিএম বারকে রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। ঝিনাইদহের এসপি মো: হাসানুজ্জামান পিপিএমকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার পদে পদায়ন করা হয়।
নবাগত এসপি মো: হাসানুজ্জামান পিপিএম গত বুধবার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি জানান, এটি নিয়মিত বদলির অংশ। কক্সবাজার জেলার পুরোটা পুলিশে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বদলি হওয়া সদস্য ছাড়পত্র নিয়েছে এবং নিয়োগকৃতরা যোগদান করছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে দেশে মাদকবিরোধী যে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছিল, তার সূচনা করে র্যাব। তখন পুলিশের বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় র্যাবও কক্সবাজারে ইয়াবাবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। র্যাবের হাতে ধরাশায়ী হয় বেশকিছু বড় ইয়াবাকারবারি। যে কারণে কক্সবাজারের ওপর বর্তমান আইজিপি বিশেষ নজর দিয়েছেন।



