কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনায় গত দুই দিনে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কুতুপালং ১ নম্বর ক্যাম্প এবং আশপাশের ক্যাম্পে পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এদের আটক করেন। আটককৃতরা সবাই কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা এবং তাদের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও খুনখারাবির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বলে উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দীন জানিয়েছেন। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের চাকমারকুল পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ ৯ জনকে আটক করেছিল র্যাব-১৫। তারা উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে গোলাগুলির ঘটনার পর টেকনাফে পালিয়ে গিয়েছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গাদের দু’টি গ্রুপের মধ্যে চলা সঙ্ঘাতে এ পর্যন্ত মহিলাসহ ৮ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক রোহিঙ্গা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে কমপক্ষে দেড় শতাধিক ঘরবাড়িতে। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশী বাসিন্দাও রয়েছেন। তিনি পেশায় গাড়ির ড্রাইভার, নাম নুরুল হুদা। সে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে মারা যান বলে জানিয়েছে নিহতের ভাই ইসমাঈল। উখিয়া থানার পুলিশ জানায়, ক্যাম্পে হতাহতের ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচটি মামলা হয়েছে।
এ দিকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের আটকের জন্য আরো অভিযান চালানো হবে জানিয়েছেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। গতকাল দুপুরে কক্সবাজার পুলিশ রেস্ট হাউজে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে জানান, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যা করা দরকার সবই করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন : উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রাট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের দেয়া আগুনে জ্বলছে। গত বুধবার রাত ১০টার দিকে কুতুপালং রেজিস্ট্রাট রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসতিতে এই আগুন দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত আগুনে জ্বলতে থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় কুতুপালং রেজিস্ট্রাট ক্যাম্পের সি ৭ ব্লকে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। উখিয়া টিভি টাওয়ারের পেছনের অনেক রোহিঙ্গা বসতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আগুনের ভয়ে ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা পালিয়ে যেতে দেখেছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হলেও আবার কখন আগুন জ্বলে তা বলা যায় না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোহিঙ্গারা প্রতিহিংসা পরায়ণ। এক রোহিঙ্গা আরেক রোহিঙ্গাকে খুন করতে মোটেও চিন্তা করে না।
কুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটেলিয়নের একটি সূত্র আগুন লাগার খবর নিশ্চিত করেছে।
মুন্না ও আনাস বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ : উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে মুন্না ও আনাস বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে গোলাগুলি এবং সংঘর্ষ চলছে। সাধারণ রোহিঙ্গারা জানিয়েছে, দুইপক্ষে চার শতাধিক সন্ত্রাসী রয়েছে। কুতুপালংসহ আশপাশের কয়েকটি আশ্রয়শিবিরে বসতি আট লাখের বেশি রোহিঙ্গার। এর মধ্যে ১৯৯০ সালে আসা রোহিঙ্গারাও রয়েছে। আগের আসা শরণার্থী গ্রুপের মুন্না বাহিনীর সাথে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ২০১৭ সালে নতুন আসা আনাস বাহিনীর বেশ কিছুদিন ধরে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের ঘটনায় আটক ২৩
কক্সবাজারের উখিয়া কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও হতাহতের ঘটনায় গত দুই দিনে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে গতকাল...



