অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে আবেদন করেছেন মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। গত রোববার রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের কার্যালয়ে ডাক রেজিস্ট্রির মাধ্যমে আবেদনপত্র প্রেরণ করেন তিনি।
ঢাবির প্রশাসনিক ভবন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার ডাক যোগে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন পাঠিয়েছেন তিনি। আবেদনে অধ্যাপক মোর্শেদ বলেছেন, তাকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে স্বাধীন মতপ্রকাশের দায়ে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, যা বিশ^বিদ্যালয়ের ১৯৭৩-এর আদেশের পরিপন্থী। অবিলম্বে ঢাবি সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাতিল ও তাকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান ড. মোর্শেদ। তবে এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক মোর্শেদকে পাওয়া যায়নি।
আবেদনে অধ্যাপক মোর্শেদ উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ নয়া দিগন্ত পত্রিকায় ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামে তার একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়। প্রবন্ধে ‘বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি’র অভিযোগ তোলা হয়। পাঠকদের প্রতি সম্মান রেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে প্রবন্ধটিতে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলো প্রত্যাহার করে নেন, যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উল্লেখিত প্রবন্ধ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে কো?নো ব্যক্তির অভিযোগ ছাড়াই ঢাবি কর্তৃপক্ষ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং বিগত ২ এপ্রিল ২০১৮ ইং তারিখ থেকে আমাকে সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়। এরপর কারণ দর্শাও নোটিশ দিলে আমি লিখিত জবাব দিই। কারণ দর্শাও নোটিশের জবাব প্রদানের দীর্ঘ এক বছর সময় অতিবাহিত হলেও তদন্তের ফল সম্পর্কে কিছুই অবহিত করা হয়নি, যা আমার সাংবিধানিক অধিকার। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতঃপূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি কোনো শাস্তির সুপারিশ না করা সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ অধিকতর তদন্তের জন্য একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ট্রাইব্যুনালেও লিখিত জবাব প্রদান করি। এমনকি গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে গিয়ে মৌখিক বক্তব্য দিই। ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে ঢাবি গত ৯ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়, যা আমাকে গত ৬ অক্টোবর অবগত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক গত ৯ সেপ্টেম্বরের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে যথাযথ প্রতিকার প্রার্থনায় এবং উক্ত সিদ্ধান্ত বাতিলপূর্বক চাকরিতে পুনর্বহালের প্রার্থনায় অত্র আবেদন দায়ের করলাম।
অধ্যাপক মোর্শেদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি সমসাময়িক বিষয়ে লেখালেখি করি এবং স্বাধীন মত প্রকাশ করি, যা আমার সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। ঢাবি কর্তৃক বেআইনিভাবে আমার বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার (অ্যাকাডেমিক ফ্রিডম) ওপরও হস্তক্ষেপ করেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাে র বাইরে আমার কোনো কাজের কারণে কোনো আইন ভঙ্গ হয়ে থাকে তাহলে তা দেশের প্রচলিত আইনে তদন্তসাপেক্ষে বিচার্য বিষয়। এ রকম কোনো বিষয়ের উল্লেøখ করে যখন ঢাবি পুলিশি কর্মকা ও বিচারিক কর্মকা পরিচালনা করে তখন বোঝা যায়, আমাকে ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে হয়রানি করা হচ্ছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মুক্ত চিন্তার ধারক ও বাহক হওয়ার কথা সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে মুক্ত চিন্তার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। যেহেতু আমি শিক্ষকতার বাইরে সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি, এই মতাদর্শগত ভিন্নতার কারণে আমাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ধারা ৫৬(২)-এ রাজনৈতিক মতাদর্শ গ্রহণের স্বাধীনতা দেয়া আছে।
উপরোক্ত অবস্থা ও কারণাধীনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ধারা ৫২-এর বিধান মোতাবেক আমার দাখিলকৃত অত্র আপিলটি গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নোটিশ প্রদানপূর্বক আপিলটি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কর্তৃক আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত রদ ও রহিত করে আমাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার দাবি জানাচ্ছি।