ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটির পরিবর্তে তিনটি ইউনিটের অধীনে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। সে ক্ষেত্রে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিট ও চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটকে বিলুপ্ত করে অবশিষ্ট তিন ইউনিটে পরীক্ষা নেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিলুপ্ত এই দুই ইউনিটকে সমন্বিত করে ‘খ’ ইউনিটের নামে পরিবর্তন আনারও প্রস্তাব দেয়া হয়।
গতকাল রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
সভার সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রথমে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল ও পরে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত করা হবে। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয় নিশ্চিত করে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: হাসানুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা এবার এককভাবে নিচ্ছে। এ ছাড়া পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে তিনটি ভর্তি পরীক্ষা হবে। সে ক্ষেত্রে ঘ ও চ-ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল হয়ে খ-ইউনিটের সাথে হবে। এখান থেকে শিক্ষার্থী ভাগ হবে। বিজ্ঞান থেকে কেউ চাইলে কলা বা সামাজিক বিজ্ঞানে যেতে পারবে। আগামী বছর থেকে একই ন্যাচারের দু’টি পরীক্ষা হবে না।
তিনি বলেন, অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে আমাদের ওয়েটিং লিস্ট থেকে তাদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারবে। সেটি তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়।
এ দিকে খ ইউনিটের সাথে ঘ ও চ ইউনিটকে সমন্বিত করার ক্ষেত্রে এই ইউনিটের নামে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে ঘ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘ ইউনিটে পরীক্ষা না হলেও যেহেতু খ ইউনিটে অধীনে এই পরীক্ষা হবে, তাই খ ইউনিটের নাম পরবর্তন করে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ লেখার দাবি জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মো: আখতারুজ্জামান বলেন, উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা যে তিনটা ধারায় পড়াশোনা করেন, অর্থাৎÑ বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ; সেই তিন ধারাকে বিবেচনায় রেখে তিনটি ইউনিটে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে।
পরীক্ষার পরিবর্তন আনার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকমুখী করা এবং গ্রাম-শহরের পার্থক্য দূর করতেই আমাদের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত। তবে যারা বিভাগ পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক তাদের জন্য সে ধরনে সুযোগ থাকবে।
প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক দশকের ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পাঁচটি ইউনিটে ভাগ করে নেয়া হয়। এগুলো হলোÑ বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ক ইউনিট, কলা অনুষদভুক্ত খ, বাণিজ্য অনুষদভুক্ত গ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ঘ ইউনিট এবং চারুকলা অনুষদভুক্ত চ ইউনিট।
ঘ ইউনিটের মাধ্যমে গ্রুপ পরিবর্তন করে অন্য গ্রুপের বিষয়গুলোতে ভর্তি হতে পারতেন শিক্ষার্থীরা।