সারা বিশ্বেই এখন করোনার ছোবল। এই মহামারীতে এখন পর্যন্ত ১৪ লাখ লোক মারা গেছেন। নানা দেশে ফ্লাইট বন্ধ। ইউরোপজুড়ে চলছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ কাতার। ২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ তারা। ৪-৫ লাখ বাংলাদেশীসহ প্রচুর বিদেশী শ্রমিক কাজ করেন এখানে। তাই কাতার সরকারকে বাড়তি সতর্ক হতেই হবে। দেশটির এই করোনা সতর্কতায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বাইরে থেকে আসা লোকদের। যেমনটায় পড়েছিলাম আমরা।
করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট ছাড়া কোনো বিমান সংস্থাই যাত্রী বহন করবে না। আমাদেরও তাই ঢাকাতে করোনা টেস্টের নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে উঠতে হলো কাতার এয়ারওয়েজে। দুই সাংবাদিকের পজিটিভ রেজাল্ট আসায় তাদের আর কাতার আসা হলো না। হজরত শাহজালাল (রহ:) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা রেজাল্ট দেখিয়ে কাতারের হোম কোয়ারেন্টিনের ফরম পূরণ কপি থাকা লাগে। বিমানে উঠার আগে সব যাত্রীকে দেয়া হলো প্লাস্টিকের বড় ফেসমাস্ক। সাথে তা সবাইকে সার্বক্ষণিক পরে রাখার নির্দেশনা।
কাতারে পৌঁছানোর পর শুধু মোবাইলের সিম কেনার সময় বলা হলো ফেসমাস্ক খোলার জন্য। এই সিম কেনা এবং এতে সব তথ্য আপডেট করতে লেগে গেল অনেকে সময়। মাত্র দুইজন কাতারি মেয়ে এই তথ্য আপডেট করতে সহায়তা করছিল শতশত যাত্রীকে। কাকে রেখে কার কথা শুনবে তারা। শ্রমিক শ্রেণীর যাত্রীদেরতো অনেক কিছুই বুঝাতে হয়। সিরিয়াল মানতে চায় না সহজেই। তাদের ফরমটাও পূরণের দায়িত্ব নেয়া লাগে।
যে দেশ থেকেই করোনা নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসা হোক না কেন, কাতারে পৌঁছানোর পর ফের করোনা টেস্ট করাতে হয়। অনেকেই নিজ দেশ থেকে নেগেটিভ রেজাল্ট নিয়ে আসেন। কিন্তু পরে জানা যায় সে রিপোর্ট ভুল। তাই বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবে দোহা বিমানবন্দরে সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা। এরপর মোবাইলে চলে যায় রেজাল্ট। ওই মোবাইল কোম্পানির অ্যাপসে প্রবেশ করলে সবুজ কোড দেখা মানে করোনা নেগেটিভ। হলুদ রঙের হলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ধূসর রঙের হলে সন্দেহজনক করোনা রোগী। আর লাল মানেতো করোনা জীবাণু শরীরে। শরীরে কোভিড-১৯ এর জীবাণু থাকুক আর না-ই থাকুক সাত দিনের কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাদকতা। খেলতে আসা বাংলাদেশ বহরের জন্য তা তিন দিনের। হোটেল রুমে এখন সেই তিন দিনের ‘বন্দী’ জীবনই পার করছি।
আমাদের জানিয়ে দেয়া হলোÑ অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, না হলে বিপুল অর্থ জরিমানা। ফেসমাস্ক থাকতে হবে। পাঁচ তারকা হোটেল ওয়ান্দহামের রিসিপশনে প্রবেশের পর যারই মুখ থেকে মাস্ক সরে গেছে বা পুরনো অভ্যাসর অংশ হিসেবে নাকে-মুখের বদলে থুতনিতে মাস্ক, তাকেই বলা হচ্ছিল মাস্কটা ঠিকমতো পরিধান করুন। হেটেলের রুমের সামনে কাউকে মাস্ক ছাড়া পাওয়া গেলে তাকেও তাৎক্ষণিক মাস্ক পরতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
করোনার কারণে সব নামীদামি হোটেলেই বুফেতে খাবার বন্ধ। হোটেলের নির্দিষ্ট নাম্বারে ফোন দিলে তবেই রুমে পাঠিয়ে দেয়া হয় খাবার। এই ফোনে পাওয়াটাও আরেক বিড়ম্বনা। অনেকক্ষণ চেষ্টার পরও অপর প্রান্তের কাউকে ফোনে পাওয়া যায় না। কখনো ফোন ব্যস্ত। কখনো ফোন কেউ রিসিভ করছে না। ক্ষুধার্ত পেটে প্রায় ঘণ্টা খানেক পর গত পরশু রাতে ফোনে খাবারের অর্ডার দিতে পেরেছিলাম। এই খাবার রুমে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আরো আধা ঘণ্টা। এরপর এক বাংলাদেশী কর্মচারী এসে বলল, ‘কাজের অনেক চাপ। তাই এই দশা।’ আসলে ৩৭ তলা হোটেলের সবার ফোন রিসিভ করে এরপর রুমে রুমে খাবার পৌঁছে দেয়াটা বড় ঝামেলাই। কাল অবশ্য জানিয়ে দিয়েছে, তারা প্রত্যেক রুমের সামনে নির্দিষ্ট সময়ে তিন বেলার খাবার দিয়ে যাবে। আর ফোন দিতে হবে না আমাদের। দুপুর থেকে সেভাবেই পাচ্ছি।