ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০২১ সালের কার্যকর পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। গত বৃহস্পতিবার দলীয় প্যানেল চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এ নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি-সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।
সাদা দল বলেছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ আছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন অযৌক্তিক। সাদা দল শিক্ষাকার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নির্বাচন পরিচালক বরাবর চিঠি দিলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। অন্য দিকে নীল দল বলছে, নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে সমিতির গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতার কারণেই।
তফসিল অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার মধ্যে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কথা ছিল। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তা জমা না দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় সাদা দল। এতে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরেন তারা।
১০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আবাসিক হল বন্ধ রেখেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তরের পরীক্ষাগুলো স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২৬ ডিসেম্বর থেকে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সভায় কোনো শিক্ষকই আপত্তি জানাননি, সাদা দলের শিক্ষকরাও নন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক আখতার হোসেন খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল কোনো দলীয় ফোরাম নয়। সেখানে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করেই আমরা একমত হয়েছি।’ সংবাদ সম্মেলনে সাদা দলের নেতা ও শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক মো: লুৎফর রহমান, নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
সাদা দল নির্বাচনে না এলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কি না, জানতে চাইলে নীল দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, সেটি দেখবে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন পরিচালক জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘সাদা দল অংশ না নিলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না, তা বলার এখতিয়ার আমার নেই। আমার কাজ শুধু নির্বাচন পরিচালনা করা।’