নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেডে বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে সড়ক অবরোধ করে হাজার হাজার শ্রমিক। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ, জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশের সাথে শ্রমিকদের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর ও চালককে মারধর করে। সংঘর্ষে প্রায় ২০ জন শ্রমিক আহত হয় বলে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আদমজী ইপিজেডের ভেতর কুংতন অ্যাপারেলস লিমিটেডের (ফ্যাশন সিটি) সাড়ে ৬ হাজার শ্রমিক তাদের বকেয়া বেতন দাবিতে দ্বিতীয়বারের মতো গতকাল শনিবার সকালে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। দুই দফা পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে।
শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-চিটাগাং রোডের বিভিন্ন পয়েন্টে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।
শ্রমিকরা জানান, তাদের চার মাস ১০ দিনের বেতন বকেয়া পড়েছে। এ ছাড়া আরো পাওনা রয়েছে। কিন্তু মালিক তাদের কোনো বকেয়াই পরিশোধ করছে না। তাদের বাড়ি ভাড়া বকেয়া পড়েছে। বাসায় খাবার নেই। অত্যন্ত অমানবিকভাবে দিন কাটাচ্ছেন তারা। ফলে নিরুপায় হয়ে সকালে ফ্যাক্টরির সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। কিন্তু মালিকপক্ষের কোনো আশ্বাস না পেয়ে আদমজী ইপিজেডের সামনে সড়ক অবরোধ করে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।
শ্রমিকরা আরো জানান, গত বছরের ১০ আগস্ট হঠাৎ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেয় মালিক। সেই বন্ধ বৃদ্ধি করতে করতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘোষণা করা হয়। বন্ধ হওয়ার পরেও মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে বেতন পরিশোধ করে আসছিল। তার ধারাবাহিকতায় প্রথম দফা গত বৃহস্পতিবার বেতন দেয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বেতন দেয়নি। ফলে বেতনের দাবিতে সকালে তারা সড়কে অবস্থান নেয়। বেতন কবে দেবে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে না পেরে মালিক পক্ষের লোকজন ফিরে যান।
বেলা দেড়টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ যৌথভাবে অ্যাকশনে যায়। তারা লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ দিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে শ্রমিকরা রেমি ফ্যাক্টরির সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে পুনরায় বিক্ষোভ করে। পরে পুলিশ সেখান থেকে শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে শ্রমিকরা রেমি ফ্যাক্টরির সামনের রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে সেখান থেকেও সরিয়ে দেয় তাদের।
এরপর শ্রমিকরা সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা-মেট্রো-গ-৩৯-০১৪৮) ভাঙচুর করে এবং কারের চালক নুর ইসলামকে মারধর করে। পরে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলাকালে আকস্মিকভাবে বেপজার আনসাররা শ্রমিকদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে অনেক শ্রমিক আহত হন। এই ঘটনার পর শ্রমিকরা আদমজী ইপিজেডের রেমি ফ্যাক্টরির সামনে সড়ক আবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
বেলা ২টায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪ এর এসপি আইনুল হক এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শরিফ শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘মালিকপক্ষের সাথে তাদের কথা হয়েছে। তারা শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দিবে।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, বেপজা ও শিল্প পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে, ১৮ জানুয়ারি ১ মাসের বেতন পরিশোধ করবে। কিন্তু শ্রমিকরা মানছেন না। পরে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪-এর সিনিয়র এএসপি জানান, ‘আমরা মালিকপক্ষ থেকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায় করে দেয়ার চেষ্টা করছি। তারা বলছেন আগামী ১৮ জানুয়ারি এক মাসের বেতন দিবেন। শ্রমিকরা এটা না মেনে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। পরে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়।