শহীদ মুনীর চৌধুরীর স্ত্রী, মরহুম সাংবাদিক মিশুক মনীরের মা নাট্য অভিনেত্রী লিলি চৌধুরীকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে শেষবারের মতো শ্রদ্ধ জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, ঢাকার মঞ্চ নাটক আন্দোলনের পথিকৃত রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফসহ বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের সদস্যরা।
নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, শহীদ মনীর চৌধুরী এবং লিলি চৌধুরী যুগলকে বাংলাদেশের মানুষ, বাঙালি জাতি, যারা বাংলা ভাষার প্রতি বিশ্ববাসী তারা চিরদিন স্মরণ করবে। একজন পঞ্চাশের দশকে ভাষা আন্দোলনে পুরো দেশকে যেমন আলোড়িত করেছিলেন, আরেকজন সাংস্কৃতিক আন্দোলন দিয়ে দেশকে আলোড়িত করেছেন। মুক্তিযোদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সাংস্কৃতিক আন্দোলন সব ক্ষেত্রেই এই পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। এই পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী হয়ে থাকবে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সরকারও লিলি চৌধুরীকে সম্মাননা দেননি। তিনি একুশে পদক পাননি, স্বাধীনতা পদক পাননি অথচ দুর্ভাগ্য স্বাধীনতাবিরোধীদের পদক দেয়া হয়েছে। আমি আজকে এই মঞ্চে সরকারের কাছে দাবি জানাতে চাই, এই বছর স্বাধীনতা পদপ্রাপ্তদের তালিকায় যেন লিলি চৌধুরীর নাম থাকে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুনীর চৌধুরী ও লিলি চৌধুরী সর্বকনিষ্ঠ সন্তান আসিফ মুনীর বলেন, কিছু বলার মতো মনের অবস্থা আজ নেই। তবুও আজ যারা এসেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনারা জানেন, আমার মায়ের বয়স ৯২ বছর, আমি এবং আমার পরিবারের সবাই ধন্য এ কারণে যে, একটা বড় সময় আমরা মাকে কাছে পেয়েছি। তাকে হারানোর ফলে আমরা একটা বড় খুঁটি হারিয়েছি। আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য, বিশিষ্ট নাট্যাভিনেত্রী ও শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরীর সহধর্মিণী, মরহুম মিশুক মুনীরের মা লিলি চৌধুরী সোমবার বিকেলে তার বনানীর বাসভবনে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।