সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, ওবায়দুল কাদেরের মন্ত্রণালয়ের বেশির ভাগ কর্মকর্তার আজ আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর বাড়ি আছে এগুলোর সব তথ্য আমার কাছে আছে। মুখ বন্ধ করতে পারবেন না। আপনি ওবায়দুল কাদের আমার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পারবেন না, যতক্ষণ আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি আরো বলেন, ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদের, নোয়াখালীর কুলাঙ্গার এমপি একরাম, ফেনীর অপরাজনীতির হোতা নিজাম হাজারী এমপির নির্দেশে এখানকার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালাচ্ছে। নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, অ্যাডিশনাল এসপি শামীম, নোয়াখালীর ডিবির ওসি, পিবিআইবির ওসি মোস্তাফিজ, কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও, ওসি, এসিল্যান্ডসহ সবাই একই স্টাইলে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। আমি দীর্ঘদিন বলে আসছি, ঢাকা থেকে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। বিচার বিভাগীয় তদন্তে যদি আমি এবং আমার অনুসারীরা দোষী হই সে ক্ষেত্রে আমাদের বিচার হবে। অন্যথায় যেটা ঘটাচ্ছেন, এখানে বিস্ফোরণ ঘটবে ইনশা আল্লাহ। গত মঙ্গলবার রাতে নিজ অনুসারী স্বপন মাহমুদের আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা কাদের বলেন, যারা দলের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছেন আজ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে। এখানে পুলিশ সন্ত্রাসী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, একতরফা তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। যারা আমার ছেলের ওপর হামলা করেছে পুলিশ এখনো পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করেনি। ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, তাও পুলিশ বলছে তদন্ত চলছে।
মির্জা কাদের বলেন, গত দুই মাস পৌরসভায় দুই লাখ টাকাও ইনকাম হয়নি। অথচ ত্রাণসহ আমার খরচ হয়েছে ৫৫ লাখ টাকা। পুলিশের কারণে কোনো মানুষ উঠতে পারে না। কথায় কথায় পুলিশ পৌরসভার লোকজনদের ধরে নিয়ে যায়। আমার পৌরসভার ক্যাম্পাস থেকে পুলিশ কিভাবে মানুষকে নেয়? এ সাহস তাদের কে দিয়েছে?
মির্জা কাদের বলেন, রোববার এখানকার কুলাঙ্গাররা ঢাকায় গিয়েছে সেতুমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য। সেতুমন্ত্রী দেখা করে নাই। তিনি কুলাঙ্গারদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন সাহেবের কাছে পাঠিয়েছেন, সেখানে কী কথা হয়েছে আমি তা জানি না। সেখান থেকে তারা কোম্পানীগঞ্জে এসে তাণ্ডব চালাচ্ছে।
কাদের মির্জা ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে আপনাদের সব তথ্য ফাঁস করে দেবো। আমি আজকে স্পষ্ট ভাষায় বলছি, আমার কর্মীদের ওপর এখানে দমন নিপীড়ন বন্ধ করেন। এগুলো আপনার কারসাজি। আমার ৪৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এত নির্যাতন দেখিনি। বিরোধী দলে থাকতেও এত নির্যাতন দেখিনি।
রমজানের কারণে চুপ আছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন করোনা হয়তো বা রমজানের কারণে আমরা চুপ আছি। জনগণ সোচ্চার, জনগণ সব জানে। টাকা দিয়ে আবার কাউকে হুমকি দিয়ে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে রেখেছেন- বন্ধ করতে পারবেন না। ঢাকায় আমাকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেন না, কিভাবে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়, সেটা আমি জানি। আমার সংবাদ সম্মেলন বন্ধ করতে পারবেন না।
কাদের মির্জা আরো বলেন, তাদের লোকজন গ্রেফতার হলে দু-এক দিন পরপর তারা জামিনে বের হয়ে আসে। অথচ আমার অনুসারীদের মাসের পর মাস জেলে থাকতে হচ্ছে। তাদেরকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। বিচার ব্যবস্থার ওপরেও তারা হস্তক্ষেপ করছে।
তিনি বলেন, তরুণ সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যাকাণ্ডে তার পিতা-মাতা বলেছেন তথাকথিত সাংবাদিক মাদক সম্রাট হাসান ইমাম রাসেল তাকে আগেও হত্যা করতে চেয়েছিল। রাসেল বাদলের লোক। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু পিবিআই সন্ত্রাসী রাসেলকে মুজাক্কির হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায়নি। ১১ দিন জেলে থাকার পর রাসেল কিভাবে জামিনে মুক্তি পায়? আমার অনুসারী সিরাজপুরের নাজিম উদ্দিন মিকনকে মুজাক্কির হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলায় পুলিশ গ্রেফতার দেখিয়েছে। অথচ মিকন মুজাক্কির হত্যা মামলাসহ কোনো হত্যা মামলার সাথে জড়িত নয়।
কাদের মির্জা বলেন, ইয়াবা সম্রাট রাহাতের (ভাগিনা ফখরুল ইসলাম রাহাত) সাথে এএসপি শামীম ও ওসি থানায় বসে গোপন বৈঠক করে। রাহাত তাদেরকে টাকা দেয়, সে থানা নিয়ন্ত্রণ করে, সে বসুরহাট জনতা ব্যাংকের তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, বর্তমানে সে চৌমুহনী ব্রাঞ্চে চাকরি করে, সে এক দিনও ব্যাংকে যায় না। অথচ মাসে মাসে বেতনের টাকা উত্তোলন করে। তাকে পুলিশ প্রটোকল দিয়ে বাসায় দিয়ে আসে। খুনি ও মাদক সম্রাট বাদলকে (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রমহান বাদল) পুলিশ প্রটোকল দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সে চরাঞ্চলে হাজার হাজার একর জমি দখল করে ফেনী, মাইজদী ও লক্ষ্মীপুরের লোকজনের কাছে নথি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সে মাদক কারবার ও নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত।
বৈষম্য চাই না, শান্তির কোম্পানীগঞ্জ চাই Ñবাদল
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল বলেছেন,আমরা বৈষম্য চাই না,শান্তির কোম্পানীগঞ্জ চাই। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে উপজেলা আওয়ামী লীগ অনুসারী কারামুক্ত চার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
মিজানুর রহমান বাদল বলেন, আজকে যে ব্যক্তি এসপিকে বলে একরাম চৌধুরীর পাদুকা লেহন করে, ওবায়দুল কাদেরের চরিত্র হনন করে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে যে বক্তব্য দেয়। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। এই বৈষম্যের জন্য বাংলাদেশ স্বাধীন হয়নি। আমরা বৈষম্য চাই না, আমরা শান্তির কোম্পানীগঞ্জ চাই। এই পর্যন্ত আকা মির্জা (আবদুল কাদের মির্জা) কোম্পানীগঞ্জে দুইজনকে হত্যা করেছে। তার এ গুন্ডাদেরকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি। অবিলম্বে কোম্পানীগঞ্জের শান্তি বিনষ্টকারী আকা মির্জাকে গ্রেফর্তা করতে হবে। তার সাথে কিছু ইয়াবা খোর, গাঁজাড়ি, ফেনসিডিল খোর আমাদের চরিত্র হনন করছে, তাদেরকেও গ্রেফতার করতে হবে।