নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিজ ঘরে হত্যার শিকার হয়েছেন বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তার ছেলে নাজমুল সাকিব নাবিল (২০) নামের এক মাদরাসাছাত্র। ঘটনার পর থেকেই নিহত নাবিলের মা নাছরিন বেগম পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ছগীর আহমেদ গতকাল সোমবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী নাছরিন মানসিক ভারসাম্যহীন। সে এঘটনা ঘটাতে পারে।
রোববার রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় নাবিলকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নাবিল ডেমরার দারুন নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসার ছাত্র। আর ইসলামী ব্যাংক নারায়ণগঞ্জ শাখা কর্মকর্তা ছগীর আহমেদের একমাত্র ছেলে।
নিহতের বাবা ছগীর আহমেদ সোমবার দুপুরে নয়া দিগন্তকে জানান, রোববার সকাল ৮টায় তিনি তার কর্মস্থলে যান। রাত ৮টায় বাসায় ফিরে ঘরের তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তার কাছে থাকা আরেকটি চাবি দিয়ে তালা খুলে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তার ছেলে আর্তনাদ করছে। তার বুকে পেটে মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ সময় স্ত্রী নাছরিন বেগমকে (৪০) বাসায় পাননি তিনি। পরে দ্রুত ছেলেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সিদ্ধিরগঞ্জে সাইনবোর্ড প্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে রাত ২টার দিকে নাবিলের মৃত্যু হয়।
তিনি আরো জানান, তার সাথে কারো কোনো শত্রুতা নেই। তার স্ত্রী মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যে তার স্মৃতিশক্তি লোপ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, তার স্ত্রী ছেলেকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। ছগীর আহমেদের গ্রামের বাড়ি সোনারগাঁওয়ের পৈতারগাঁও এলাকায়। সিদ্ধিরগঞ্জে পাইনাদী নতুন মহল্লায় বাড়ি কিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি নাবিলকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করান আত্মীয়ের মধ্যে। ঈদের তিন দিন পর নাবিলের স্ত্রী ইমা (১৮) বাপের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সেখানেই ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি সোমবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। এ দিকে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) ইমরান সিদ্দিকী ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মশিউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি মা নাছরিনই করেছেন। তারপরও আমরা আরো তদন্ত করছি। তার সাথে আর কেউ ছিল কি-না? কী কারণে তিনি এমন একটি নৃশংস ঘটনা ঘটালো। যে তিনি পলাতক তাই আপাতত আমরা এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। তাকে গ্রেফতারের পর আরো বিস্তারিত জানতে পারব। তবে নিহত নাবিলের বাবার দাবি নাছরিন কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। মাঝে মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন।