সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাকে মেরে ফেললে তোমরা তিনজনকে মেরে ফেলার জন্য রেডি থাকো। ওই তিনজন হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদের ও নোয়াখালী-৪ আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। কাদের মির্জা আরো বলেন, আমার ঘরে শত্রু বিভীষণ। আজকে ঘরের শত্রু আমাকে শেষ করে দিয়েছে। ওবায়দুল কাদের আজ আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কারণ আমি তার ও তার স্ত্রীর অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। তাদের আমলনামা আমার হাতে আছে। আমি এখনো জনসমক্ষে তুলে ধরিনি, সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরিনি। ওবায়দুল আমার আত্মীয়স্বজনকে প্রভাব খাটিয়ে, অর্থ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে অবস্থান করিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জের বেশির ভাগ নেতাকর্মী আমার সাথে আছে। ৯০ শতাংশ নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ আমার পক্ষে আছে। তিনি গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় পৌরসভা কার্যালয়ে তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে এসব কথা বলেন।
এই লাইভে তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতের পুরো সন্ত্রাসী চক্র আমার প্রতিপক্ষ অপরাজনীতির হোতাদের সাথে আছে। তাদের একটি পরিকল্পনা, মির্জাকে এখান থেকে সরিয়ে দিতে পারলে তারা কোম্পানীগঞ্জে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। হেফাজতে ইসলামও আমার বিরুদ্ধে।
মির্জা কাদের ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে আরো বলেন, আপনার স্ত্রী ইশরাতুন্নেছা কাদের মিজানুর রহমান বাদলের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক। বাদল উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে দুই হাজার নারীর চরিত্র নষ্ট করেছেন। কাদের সাহেব, আপনার বাসার কাজের লোক পর্যন্ত একরাম নিজামের মাসোয়ারা খায়। তিনি বলেন, সরকার পরিচালনা করার জন্য একটি টিম ওয়ার্ক দরকার। আওয়ামী লীগের শেখ হাসিনা ও বিএনপির খালেদা জিয়ার বাইরে কিছুই নেই। এখন ওয়ানম্যান শোর রাজনীতি চলছে। শেখ হাসিনার বাইরে কোনো নেতা দলের জন্য কাজ করে না। দলের তোষামোদকারীরা এক সময় খন্দকার মোস্তাকের ভূমিকা পালন করবে। নেত্রী, আপনাকে এটা স্মরণ রাখতে হবে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, নেত্রী, আপনার জীবন সায়াহ্নে ১৫ বছর ক্ষমতা থাকাকালীন সময়ে অপরাজনীতির হোতাদের খাইয়েছেন। তারা আপনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? ওবায়দুল কাদেরের মতো তোষামোদকারীদের আর খাওয়াইয়েন না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিন, আপনি মানুষের হৃদয়ে চিরদিন থাকবেন। এখন থেকে ভালো মানুষকে সিলেক্ট করুন দেখবেন আগামী নির্বাচনে আপনার দল ২৭০ আসন পাবে। যদি না পান আমি হিজরত করব।
তিনি সেতুমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, আপনি নির্বাচনের পর থেকে ১০ টাকাও কোম্পানীগঞ্জের নেতাকর্মীদের পেছনে আপনার চালান নাই। মানুষকে সম্মান অন্তর থেকে আসে। আপনাকে সম্মান করার যোগ্যতা আপনার স্ত্রীর কারণে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, আমার স্পষ্ট বক্তব্য- পুরো কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শান্তি চাই। অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে, হত্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
এর আগে কাদের মির্জা শুক্রবার রাত ১টা ৩০ মিনিটে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাস্টাসে তিনি বলেন, কোম্পানীগঞ্জে যদি আর একটা মায়ের বুক খালি করা হয় তাহলে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। সে মামলার ১ নম্বর আসামি থাকবে ওবায়দুল কাদের, ২ নম্বর আসামি মো: শাহাব উদ্দিন, ৩ নম্বর আসামি একরাম চৌধুরী, ৪ নম্বর আসামি নিজাম হাজারী, ৫ নম্বর আসামি ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইশরাতুন্নেছা কাদের, ৬ নম্বর নোয়াখালীর ডিসি, ৭ নম্বর নোয়াখালীর এসপি, ৮ নম্বর কোম্পানীগঞ্জের ওসি, ৯ নম্বর আসামি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত, ১০ নম্বর কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও এবং ১১ নম্বর কোম্পানীগঞ্জের এসি ল্যান্ড।
আমাকে হত্যা করলে ৩ জনকে হত্যা করার জন্য তৈরি থাকো : কাদের মির্জা
সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আমাকে মেরে ফেললে তোমরা তিনজনকে মেরে ফেলার জন্য রেডি থাকো। ওই তিনজন হচ্ছেন...



